
সালেকুজ্জামান শামীম, ঝিনাইদহ মহেশপুর প্রতিনিধিঃ
ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশইনের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাভাষী কিছু মানুষকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠানোর অভিযোগ ওঠার পর মহেশপুর সীমান্তে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। স্থানীয় সূত্র ও সীমান্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহলের কারণে এখন পর্যন্ত মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা সীমান্তে পুশইন ঘটাতে পারেনি বিএসএফ।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি এবং সন্দেহজনক চলাচল পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। শুধু বিজিবিই নয়, স্থানীয় আনসার সদস্য এবং সচেতন গ্রামবাসীরাও সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। ফলে পুরো সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের সতর্ক পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, বিজিবির তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তে পুশইন সংক্রান্ত যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির সদস্যরা নিয়মিতভাবে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় জনগণের সম্পৃক্ততা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। বিজিবি, আনসার এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ সীমান্ত রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারাও যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। তবে দেশের সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহেশপুর সীমান্তে বর্তমানে যে কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির এই তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
আরোও পড়ুন - মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ফেনসিডিল ও ভারতীয় আম উদ্ধার