
ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বটতৈল ক্যানালপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত লায়লা বেগমকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতা কার্যক্রম ও স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পরিচালিত অভিযানে এই সাফল্য এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন লায়লা বেগম। এলাকাবাসীর একাংশ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাদক ব্যবসা বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে লায়লা বেগম আটক হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় লায়লা বেগমের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকৃত মাদকের ধরন বা পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে লায়লা বেগম আটক হওয়ার বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে গতকাল বটতৈল মোড় সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে একটি বৃহৎ মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার এবং সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষার জন্য মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। তারা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয়দের মতে, সমাবেশের পরপরই প্রশাসনের অভিযানে লায়লা বেগম আটক হওয়ায় মাদকবিরোধী আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে।
এদিকে অভিযানে আটক অপর দুই ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদক নির্মূলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারি ও সামাজিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাদের মতে, লায়লা বেগম আটক হওয়ার ঘটনা প্রশাসনের চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরোও পড়ুন - কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ