
মোঃ নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
মাদকমুক্ত ও সচেতন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী কাউন্সিলিং কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চাইল্ড, নট ব্রাইড প্রকল্পের আওতায় নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমি এবং নাগেশ্বরী পৌর হলরুমে পৃথকভাবে এ আয়োজন করা হয়। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংগঠক ও উন্নয়নকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
“মাদককে না বলি, সুস্থ সমাজ জীবন গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মাদকবিরোধী কাউন্সিলিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে নাগেশ্বরী পৌর যুব সংগঠন। এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমজেএসকেএস এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানান, মাদকের বিস্তার রোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা। সে লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমির প্রধান শিক্ষক কে এম আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. একরামুল হক সিদ্দিকী, এমজেএসকেএস-এর নাগেশ্বরী পৌরসভার ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মানবী রায়, প্রকল্প কমিটির আহ্বায়ক মো. আকতারুল মাহমুদ, সদস্য মো. মেহেদী হাসান, শারমিন আক্তার, মাহমুদা আক্তার, আয়সা সিদ্দিকা এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেল মিয়া। বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সময়ে মাদক তরুণদের জন্য অন্যতম বড় সামাজিক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই ছাত্রজীবন থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামনে মাদকের ভয়াবহতা, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মাদকবিরোধী কাউন্সিলিং সেশনে বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো হয়, কীভাবে মাদক একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে। পাশাপাশি মাদকাসক্তি প্রতিরোধে বন্ধুবান্ধব নির্বাচন, পরিবারে খোলামেলা আলোচনা এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে সচেতনতামূলক বিভিন্ন ফেস্টুন, পোস্টার ও বার্তা প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল— “মাদককে না বলি, সুস্থ সমাজ জীবন গড়ি”, “মাদককে ছাড়ুন, পরিবারকে ভালোবাসুন” এবং “মাদক থেকে দূরে থাকি, সুস্থ ও নিরাপদ থাকি”। এসব বার্তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। আয়োজকরা জানান, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির লক্ষ্যেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করা হয় এবং উপহার হিসেবে সাবান বিতরণ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে তরুণদের সামনে যেমন অসংখ্য সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি। মাদক সেই ঝুঁকির অন্যতম বড় উৎস। তাই পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাদের মতে, নিয়মিত মাদকবিরোধী কাউন্সিলিং এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীরা মাদকের কুফল সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা ভবিষ্যতেও নাগেশ্বরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের মাদকবিরোধী কাউন্সিলিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি মাদকমুক্ত প্রজন্ম এবং উন্নত সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
আরোও পড়ুন - নাগেশ্বরীতে স্পেস টু লিড প্রকল্পের ত্রৈমাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত