
ইমরান হোসেন,(কুষ্টিয়া)
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ৬ জনকে হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। আদালতের এ রায়ের পর রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইনুর কারাদণ্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টা ২৮ মিনিটে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে মামলার বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় ৬ জন নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে। তদন্ত শেষে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত ইনুর কারাদণ্ড হিসেবে ১০ বছরের সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায় দেশের আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন। নির্ধারিত দিনেই আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মামলাটি জনমনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রায়ের পর মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রচলিত আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগও আইন অনুযায়ী উন্মুক্ত থাকবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ইনুর কারাদণ্ড সংক্রান্ত এ রায় ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে আলোচনায় থাকতে পারে।
এদিকে রায় ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে আদালতের রায় ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের প্রতি সংশ্লিষ্ট সবাই নজর রাখছেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে মামলাটির আপিলসহ অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেগুলোও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। এদিকে ইনুর কারাদণ্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
আরোও পড়ুন - কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক দুর্ঘটনা, খাদে উল্টে আগুনে চালক-সহকারী নিহত