
মোস্তফা কামাল জয়, হালুয়াঘাট প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় দায়িত্ব পালনের দ্বিতীয় দিনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বর্ণের চেইন চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত এক নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। স্বর্ণ চোর আটকের এই ঘটনায় হাসপাতালের রোগী, স্বজন এবং চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) রাতে সালমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীর বেডের পাশে গিয়ে সুযোগ বুঝে একটি স্বর্ণের চেইন চুরি করে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে রোগীর স্বজনরা চেইনটি খুঁজে না পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত নারীকে শনাক্ত করা হয় এবং তার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করেন আনসার সদস্যরা। দায়িত্বে থাকা পিসি মো. মনিরুজ্জামান, আনসার সদস্য মো. নজরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল আজিজ পূর্বের তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ওই নারীকে পুনরায় হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ চোর হিসেবে শনাক্ত সালমা আক্তারকে আটক করেন। পরে জানা যায়, তার বাড়ি হালুয়াঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের মোজাখালী গ্রামে।
আটকের পর সালমা আক্তারকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, চুরি করা স্বর্ণের চেইনটি ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় আনসার সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও মনে করছে, সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণেই স্বর্ণ চোর দ্রুত আইনের আওতায় এসেছে এবং সম্ভাব্য আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং চুরি, দালালচক্র ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা। হালুয়াঘাটে সংঘটিত এই ঘটনাকে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আনসার সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং পেশাদারিত্বের ফলে স্বর্ণ চোর আটক হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে রোগী ও তাদের স্বজনরা আরও নিশ্চিন্তে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরোও পড়ুন - হালুয়াঘাট পৌরসভার বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণা, উন্নয়নে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা