
ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
গণভোট আয়োজন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, কুষ্টিয়া জেলা। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেট হয়ে ঐতিহাসিক পাঁচ রাস্তার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও জনসমাগমের কারণে শহরের কয়েকটি সড়কে কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। তাদের দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে গণভোট আয়োজনের দাবিও জানান তারা। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কুষ্টিয়া শহরের ঐতিহাসিক পাঁচ রাস্তার মোড়কে ‘জুলাই শহীদ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। এ সময় আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক জান্নাতুল ফেরদৌস তনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, এবি পার্টির প্রধান সমন্বয়ক বেলাল মাহমুদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি আব্দুল লতিফ খান। এছাড়াও জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। তারা অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমে বিলম্ব হলে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপ, প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য পথরেখা তৈরির আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে নেতারা জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশ পুনর্গঠনের স্বার্থে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তারা দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং একটি অংশগ্রহণমূলক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে কুষ্টিয়া শহরে ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো কর্মসূচিতে সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
আরোও পড়ুন - ৬ জন হত্যা মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়