জিয়ানগরে সুপারি ফলন কম, চড়া দামে খুশি কৃষকেরা

১৭

আরিফুল ইসলাম, জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় সুপারির ফলন কম হয়েছে। তবে উৎপাদন কম হলেও বাজারে তুলনামূলক চড়া দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট স্থানীয় চাষি ও বাগানমালিকেরা। মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচা ও পাকা সুপারির কেনাবেচা জমে উঠেছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় কৃষকদের কাছে সুপারি শুধু একটি মৌসুমি কৃষিপণ্য নয়, বরং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো এবং অন্যান্য কৃষিকাজে বিনিয়োগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ কারণে ফলন কমার পরও বাজারদরের ইতিবাচক পরিস্থিতি তাঁদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।

সরেজমিনে জিয়ানগরের বিভিন্ন হাটবাজারের বেচাকেনার চিত্রে দেখা যায়, সুপারির মৌসুমকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যস্ততা রয়েছে। বাগান থেকে সুপারি সংগ্রহ, বাছাই এবং বাজারে বিক্রির কাজে সময় দিচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কাঁচা ও পাকা সুপারির মান, আকার এবং ধরন অনুযায়ী দরদাম নির্ধারণের বিষয়টিও কেনাবেচায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুপারি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বেচাকেনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট বাজারভিত্তিক দাম ও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ জানা না যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয় চাষিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছর গাছে আশানুরূপ সুপারি না ধরায় মৌসুমের শুরুতে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। কারণ, ফলন কম হলে একটি বাগান থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ পণ্য সংগ্রহ করা যায় না। এতে উৎপাদন ও বিক্রির হিসাবেও পরিবর্তন আসে। তবে বর্তমান বাজারে ভালো দর পাওয়ায় কম ফলনের প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। সুপারি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কৃষক পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, কৃষিকাজের ব্যয় এবং অন্যান্য পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। তাই ফলনের পাশাপাশি বিক্রয়মূল্যও তাঁদের আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃষকদের মতে, ধানসহ অনেক মৌসুমি ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে নিয়মিত উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে। একবার গাছ প্রতিষ্ঠিত হলে দীর্ঘ সময় ধরে ফল পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে ভালো উৎপাদনের জন্য গাছের পরিচর্যা, মাটির অবস্থা, আবহাওয়া এবং রোগবালাইয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি। কোনো মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে কৃষকের আয় ধরে রাখতে বাজারদর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জিয়ানগরে এবার সুপারি ফলন কম হওয়ায় সেই বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। চাষিদের প্রত্যাশা, বাজারে বর্তমান ভালো দাম বজায় থাকলে সীমিত উৎপাদন থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে অন্তত কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

সুপারি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সংগ্রহকারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট মানুষেরও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। বাগান থেকে সুপারি সংগ্রহ করে বাজারে আনা, পণ্য বাছাই, ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন ধাপে মানুষের অংশগ্রহণ থাকে। ফলে সুপারির বাজার সচল থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে ফলন কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে শুধু চড়া বাজারদরের ওপর নির্ভর না করে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কৃষকদের বাগান পরিচর্যায় সহায়তা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামগ্রিকভাবে জিয়ানগরে সুপারির মৌসুমে কম উৎপাদনের বিপরীতে ভালো দাম পাওয়ার বিষয়টি কৃষকদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করে একটি বাগানে কতটুকু সুপারি উৎপাদিত হয়েছে, বিক্রির সময় কী দাম পাওয়া যাচ্ছে এবং সংগ্রহ ও পরিবহনে কত ব্যয় হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর। বাজারদর ভালো থাকলেও ফলন কমে গেলে সব চাষি সমানভাবে লাভবান হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের পরিচর্যা, উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সুপারির বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা গেলে ভবিষ্যতে চাষিরা আরও পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন ও বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আরোও পড়ুন – হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

জিয়ানগরে সুপারি ফলন কম, চড়া দামে খুশি কৃষকেরা

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
১৭

আরিফুল ইসলাম, জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় সুপারির ফলন কম হয়েছে। তবে উৎপাদন কম হলেও বাজারে তুলনামূলক চড়া দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট স্থানীয় চাষি ও বাগানমালিকেরা। মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচা ও পাকা সুপারির কেনাবেচা জমে উঠেছে। সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় কৃষকদের কাছে সুপারি শুধু একটি মৌসুমি কৃষিপণ্য নয়, বরং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো এবং অন্যান্য কৃষিকাজে বিনিয়োগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ কারণে ফলন কমার পরও বাজারদরের ইতিবাচক পরিস্থিতি তাঁদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে।

সরেজমিনে জিয়ানগরের বিভিন্ন হাটবাজারের বেচাকেনার চিত্রে দেখা যায়, সুপারির মৌসুমকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যস্ততা রয়েছে। বাগান থেকে সুপারি সংগ্রহ, বাছাই এবং বাজারে বিক্রির কাজে সময় দিচ্ছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কাঁচা ও পাকা সুপারির মান, আকার এবং ধরন অনুযায়ী দরদাম নির্ধারণের বিষয়টিও কেনাবেচায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুপারি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বেচাকেনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট বাজারভিত্তিক দাম ও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ জানা না যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয় চাষিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছর গাছে আশানুরূপ সুপারি না ধরায় মৌসুমের শুরুতে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। কারণ, ফলন কম হলে একটি বাগান থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ পণ্য সংগ্রহ করা যায় না। এতে উৎপাদন ও বিক্রির হিসাবেও পরিবর্তন আসে। তবে বর্তমান বাজারে ভালো দর পাওয়ায় কম ফলনের প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। সুপারি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কৃষক পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, কৃষিকাজের ব্যয় এবং অন্যান্য পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। তাই ফলনের পাশাপাশি বিক্রয়মূল্যও তাঁদের আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃষকদের মতে, ধানসহ অনেক মৌসুমি ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে নিয়মিত উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে। একবার গাছ প্রতিষ্ঠিত হলে দীর্ঘ সময় ধরে ফল পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে ভালো উৎপাদনের জন্য গাছের পরিচর্যা, মাটির অবস্থা, আবহাওয়া এবং রোগবালাইয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি। কোনো মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে কৃষকের আয় ধরে রাখতে বাজারদর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জিয়ানগরে এবার সুপারি ফলন কম হওয়ায় সেই বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। চাষিদের প্রত্যাশা, বাজারে বর্তমান ভালো দাম বজায় থাকলে সীমিত উৎপাদন থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে অন্তত কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

সুপারি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কৃষকের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সংগ্রহকারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট মানুষেরও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। বাগান থেকে সুপারি সংগ্রহ করে বাজারে আনা, পণ্য বাছাই, ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন ধাপে মানুষের অংশগ্রহণ থাকে। ফলে সুপারির বাজার সচল থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে ফলন কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে শুধু চড়া বাজারদরের ওপর নির্ভর না করে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কৃষকদের বাগান পরিচর্যায় সহায়তা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামগ্রিকভাবে জিয়ানগরে সুপারির মৌসুমে কম উৎপাদনের বিপরীতে ভালো দাম পাওয়ার বিষয়টি কৃষকদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করে একটি বাগানে কতটুকু সুপারি উৎপাদিত হয়েছে, বিক্রির সময় কী দাম পাওয়া যাচ্ছে এবং সংগ্রহ ও পরিবহনে কত ব্যয় হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর। বাজারদর ভালো থাকলেও ফলন কমে গেলে সব চাষি সমানভাবে লাভবান হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের পরিচর্যা, উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সুপারির বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা গেলে ভবিষ্যতে চাষিরা আরও পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন ও বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আরোও পড়ুন – হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

⇧