কাওছার আহমেদ,জেলা প্রতিনিধি, (জামালপুর)
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তারের পর ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং দলীয় পদ হারানোর বিষয়টি বিচারিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম ও সদস্যসচিব বায়েজীদ আল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের অধীন ১ নম্বর ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর পদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের সাংগঠনিক কারণ হিসেবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ইউনিয়ন ছাত্রদলে তাঁর দায়িত্বের অবসান ঘটেছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী সময়ে ওই পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমান উল্লাহ উদয়সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি ১৫০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশি তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে জব্দ করা মোটরসাইকেলটির মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা আদালতের নথি ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর পর চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আমান উল্লাহ উদয় ছাড়াও সুজাত মিয়া, সিফাত, রুবেল মিয়া ও ফুরকান হোসেনের নাম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন, তাঁদের পৃথক ভূমিকা এবং উদ্ধার করা মদের সঙ্গে কার কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের তথ্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি, আদালতের আদেশ কিংবা আসামিদের জামিনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া না গেলে সেসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়। আইন অনুযায়ী, মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তটি ফৌজদারি মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত থেকে পৃথক। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে আমান উল্লাহ উদয়কে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংগঠনটি নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধি ও সাংগঠনিক বিবেচনায় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এই অব্যাহতি চূড়ান্ত বহিষ্কার কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। এ কারণে সিদ্ধান্তটিকে বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত ‘অব্যাহতি’ শব্দের ভিত্তিতেই বর্ণনা করা যথাযথ।
ছাত্রদল নেতা আমান উদয়কে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠনের জবাবদিহি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে মামলার নথি, তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মাদক উদ্ধার এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি ও সংগঠনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা যাবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আমান উল্লাহ উদয়কে তাঁর দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরোও পড়ুন – চার দেশের রাষ্ট্রদূতের নজর কাড়ল আনসার-ভিডিপির কুটিরশিল্প
মদসহ গ্রেপ্তার, ছাত্রদল নেতা আমান উদয়কে অব্যাহতি
কাওছার আহমেদ,জেলা প্রতিনিধি, (জামালপুর)
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তারের পর ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী সময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং দলীয় পদ হারানোর বিষয়টি বিচারিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।
বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম ও সদস্যসচিব বায়েজীদ আল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের অধীন ১ নম্বর ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর পদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের সাংগঠনিক কারণ হিসেবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে ইউনিয়ন ছাত্রদলে তাঁর দায়িত্বের অবসান ঘটেছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী সময়ে ওই পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২১৭ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমান উল্লাহ উদয়সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি ১৫০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশি তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে জব্দ করা মোটরসাইকেলটির মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা আদালতের নথি ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর পর চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয় বলে পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আমান উল্লাহ উদয় ছাড়াও সুজাত মিয়া, সিফাত, রুবেল মিয়া ও ফুরকান হোসেনের নাম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন, তাঁদের পৃথক ভূমিকা এবং উদ্ধার করা মদের সঙ্গে কার কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের তথ্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি, আদালতের আদেশ কিংবা আসামিদের জামিনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া না গেলে সেসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়। আইন অনুযায়ী, মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তটি ফৌজদারি মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত থেকে পৃথক। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে আমান উল্লাহ উদয়কে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংগঠনটি নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধি ও সাংগঠনিক বিবেচনায় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এই অব্যাহতি চূড়ান্ত বহিষ্কার কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। এ কারণে সিদ্ধান্তটিকে বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত ‘অব্যাহতি’ শব্দের ভিত্তিতেই বর্ণনা করা যথাযথ।
ছাত্রদল নেতা আমান উদয়কে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংগঠনের জবাবদিহি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে মামলার নথি, তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মাদক উদ্ধার এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি ও সংগঠনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা যাবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আমান উল্লাহ উদয়কে তাঁর দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরোও পড়ুন – চার দেশের রাষ্ট্রদূতের নজর কাড়ল আনসার-ভিডিপির কুটিরশিল্প