শ্রীমঙ্গলে হত্যা মামলায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ড

৩৭

এস আলম, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাবানা বেগম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে পৃথক মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে সাত বছর এবং অন্যজনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন শ্রীমঙ্গলের পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে মো. নাসির মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫) এবং মৃত মতন মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩০) ও দুলাল মিয়া (২৬)। তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের অনুমোদনসংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সাবানা বেগম হত্যা মামলায় এ চার আসামির সর্বোচ্চ দণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

দুই আসামির কারাদণ্ড

একই মামলায় মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়া (৫০) এবং জয়নাল আবেদীন (৫৫) নামে আরও দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, জয়নাল আবেদীনকে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত তাঁদের পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

পাঁচ আসামি খালাস

মামলার অপর পাঁচ আসামি হলেন জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার মিয়া, মো. আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগম। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় একাধিক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক দণ্ড এবং খালাসের সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে রায়ে প্রত্যেক আসামির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়, সাক্ষ্য-প্রমাণের বিস্তারিত বিবরণ এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় সেসব বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো দাবি করা যাচ্ছে না।

অর্থদণ্ডের টাকা পাবেন এজাহারকারীর পরিবারের সদস্যরা

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ড থেকে আদায় করা টাকা এজাহারকারীর পরিবারের সদস্যদের দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। রায়ের এই অংশে অর্থদণ্ডের অর্থ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ বিতরণের সময়সীমা বা টাকা হস্তান্তরের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে সুনির্দিষ্ট বিবরণ নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে সাবানা বেগম হত্যা মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড এবং পাঁচ আসামির খালাসের সিদ্ধান্ত জানা গেল। চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড, অন্য দুই আসামির কারাদণ্ড এবং পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সমন্বয়ের নির্দেশও রায়ে রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এদিকে, খালাসপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা যেতে পারে।

আরোও পড়ুন – গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৬০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

শ্রীমঙ্গলে হত্যা মামলায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ড

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
৩৭

এস আলম, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাবানা বেগম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে পৃথক মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে সাত বছর এবং অন্যজনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন শ্রীমঙ্গলের পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে মো. নাসির মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫) এবং মৃত মতন মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩০) ও দুলাল মিয়া (২৬)। তাঁদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের অনুমোদনসংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সাবানা বেগম হত্যা মামলায় এ চার আসামির সর্বোচ্চ দণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

দুই আসামির কারাদণ্ড

একই মামলায় মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়া (৫০) এবং জয়নাল আবেদীন (৫৫) নামে আরও দুই আসামিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, জয়নাল আবেদীনকে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত তাঁদের পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

পাঁচ আসামি খালাস

মামলার অপর পাঁচ আসামি হলেন জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার মিয়া, মো. আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগম। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় একাধিক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক দণ্ড এবং খালাসের সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে রায়ে প্রত্যেক আসামির বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়, সাক্ষ্য-প্রমাণের বিস্তারিত বিবরণ এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় সেসব বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো দাবি করা যাচ্ছে না।

অর্থদণ্ডের টাকা পাবেন এজাহারকারীর পরিবারের সদস্যরা

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ড থেকে আদায় করা টাকা এজাহারকারীর পরিবারের সদস্যদের দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। রায়ের এই অংশে অর্থদণ্ডের অর্থ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ বিতরণের সময়সীমা বা টাকা হস্তান্তরের বিস্তারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে সুনির্দিষ্ট বিবরণ নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষিত এ রায়ের মধ্য দিয়ে সাবানা বেগম হত্যা মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড এবং পাঁচ আসামির খালাসের সিদ্ধান্ত জানা গেল। চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড, অন্য দুই আসামির কারাদণ্ড এবং পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সমন্বয়ের নির্দেশও রায়ে রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এদিকে, খালাসপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা যেতে পারে।

আরোও পড়ুন – গোয়াইনঘাট সীমান্তে ৬০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

⇧