নলছিটির দুই প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, পাস করেনি কেউ

২৯

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: মোঃ ইলিয়াস কাঞ্চন (সুমন):

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার একটি কলেজ ও একটি ফাজিল মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির এমন ফলাফল স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। একই উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে এমন ফলাফল কেন হলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো নলছিটির অ্যাডভোকেট হারুন কলেজ এবং হাঁড়িখালি দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসা। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে পাসের হার শূন্য শতাংশে নেমে এসেছে। একটি সাধারণ কলেজ এবং একটি ফাজিল মাদরাসায় একই ধরনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, বিভাগ অনুযায়ী ফলাফল এবং বিষয়ভিত্তিক অকৃতকার্যের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে ফলাফলের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল ঘিরে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু নিয়মিত ক্লাস, পাঠ্যসূচি শেষ করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহযোগিতা এবং পরীক্ষার আগে যথাযথ প্রস্তুতির ব্যবস্থা না থাকলে ভালো ফলাফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শতভাগ ফেল-এর মতো ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতার বিষয় নয়; এর পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার মতো বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া কোনো একটি কারণকে দায়ী করা সমীচীন নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির গত কয়েক বছরের পরীক্ষার ফলাফল, নিয়মিত ক্লাসের চিত্র, শিক্ষক উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোন কোন বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, সেটিও বিশ্লেষণ করা হলে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সহজ হবে।

এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন এবং কী কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা পাঠদানসংক্রান্ত কোনো দুর্বলতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু ফলাফল প্রকাশের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষাবর্ষজুড়ে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে এমন ফলাফল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। নলছিটির অ্যাডভোকেট হারুন কলেজ ও হাঁড়িখালি দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসার এবারের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরোও পড়ুন – নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ

নলছিটির দুই প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, পাস করেনি কেউ

নভেম্বর ১, ২০২৬
২৯

নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: মোঃ ইলিয়াস কাঞ্চন (সুমন):

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার একটি কলেজ ও একটি ফাজিল মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির এমন ফলাফল স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। একই উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে এমন ফলাফল কেন হলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান দুটি হলো নলছিটির অ্যাডভোকেট হারুন কলেজ এবং হাঁড়িখালি দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসা। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে পাসের হার শূন্য শতাংশে নেমে এসেছে। একটি সাধারণ কলেজ এবং একটি ফাজিল মাদরাসায় একই ধরনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, বিভাগ অনুযায়ী ফলাফল এবং বিষয়ভিত্তিক অকৃতকার্যের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে ফলাফলের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।

প্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল ঘিরে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু নিয়মিত ক্লাস, পাঠ্যসূচি শেষ করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহযোগিতা এবং পরীক্ষার আগে যথাযথ প্রস্তুতির ব্যবস্থা না থাকলে ভালো ফলাফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শতভাগ ফেল-এর মতো ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতার বিষয় নয়; এর পেছনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার মতো বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া কোনো একটি কারণকে দায়ী করা সমীচীন নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির গত কয়েক বছরের পরীক্ষার ফলাফল, নিয়মিত ক্লাসের চিত্র, শিক্ষক উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোন কোন বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, সেটিও বিশ্লেষণ করা হলে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সহজ হবে।

এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন এবং কী কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা পাঠদানসংক্রান্ত কোনো দুর্বলতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু ফলাফল প্রকাশের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষাবর্ষজুড়ে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে এমন ফলাফল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। নলছিটির অ্যাডভোকেট হারুন কলেজ ও হাঁড়িখালি দারুল উলুম ফাজিল মাদরাসার এবারের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরোও পড়ুন – নলছিটিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ

⇧