দোহারে ব্রি ধান ১০১ সফল প্রদর্শনী, কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার দোহার উপজেলায় আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ব্রি ধান ১০১ জনপ্রিয় করতে সফল মাঠ দিবস ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার জামালচর গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নতুন জাতের ধান নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাচাই এবং কৃষকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোই ছিল এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রদর্শনীতে কৃষকরা সরাসরি জমিতে ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিশ্ব ব্যাংক ও ইফাদের অর্থায়নে পরিচালিত পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত জাতের ধান সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই ব্রি ধান ১০১ মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। জমিতে এ জাতের ধানের বৃদ্ধি, শীষের গঠন এবং ফলনের সম্ভাবনা দেখে উপস্থিত সবাই আশাবাদী হন। কৃষকরা জানান, কম খরচে বেশি উৎপাদন সম্ভব হলে তারা আগামী মৌসুমে এই জাত চাষে আগ্রহী হবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্রি ধান ১০১ একটি উচ্চফলনশীল জাত, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। ফলে কৃষকরা তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে বেশি উৎপাদন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের আয় বাড়বে। উন্নত জাতের ধান চাষে সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মাদ মিঠুন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক-কৃষানি উপস্থিত ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত কৃষকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন কর্মকর্তারা। কীভাবে জমি প্রস্তুত করতে হবে, কী পরিমাণ সার ব্যবহার করতে হবে এবং রোগবালাই দমনে কী করণীয়—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখে স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ধানের গাছ শক্ত, শীষ ভালো এবং ফলনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। অনেকেই জানান, আগামী বোরো মৌসুমে তারা ব্রি ধান ১০১ চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ জাতের ধান দোহারের কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাবে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের খাদ্য মজুত আরও শক্তিশালী হবে। নতুন জাতের সফল প্রদর্শনী স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

আরোও পড়ুন – দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে ত্রিমুখী সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

দোহারে ব্রি ধান ১০১ সফল প্রদর্শনী, কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে

মে ৩, ২০২৬

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার দোহার উপজেলায় আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ব্রি ধান ১০১ জনপ্রিয় করতে সফল মাঠ দিবস ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার জামালচর গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নতুন জাতের ধান নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাচাই এবং কৃষকদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোই ছিল এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রদর্শনীতে কৃষকরা সরাসরি জমিতে ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিশ্ব ব্যাংক ও ইফাদের অর্থায়নে পরিচালিত পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত জাতের ধান সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই ব্রি ধান ১০১ মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। জমিতে এ জাতের ধানের বৃদ্ধি, শীষের গঠন এবং ফলনের সম্ভাবনা দেখে উপস্থিত সবাই আশাবাদী হন। কৃষকরা জানান, কম খরচে বেশি উৎপাদন সম্ভব হলে তারা আগামী মৌসুমে এই জাত চাষে আগ্রহী হবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্রি ধান ১০১ একটি উচ্চফলনশীল জাত, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। ফলে কৃষকরা তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে বেশি উৎপাদন করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকদের আয় বাড়বে। উন্নত জাতের ধান চাষে সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দোহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মাদ মিঠুন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক-কৃষানি উপস্থিত ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত কৃষকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন কর্মকর্তারা। কীভাবে জমি প্রস্তুত করতে হবে, কী পরিমাণ সার ব্যবহার করতে হবে এবং রোগবালাই দমনে কী করণীয়—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখে স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ধানের গাছ শক্ত, শীষ ভালো এবং ফলনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। অনেকেই জানান, আগামী বোরো মৌসুমে তারা ব্রি ধান ১০১ চাষের পরিকল্পনা করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ জাতের ধান দোহারের কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাবে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের খাদ্য মজুত আরও শক্তিশালী হবে। নতুন জাতের সফল প্রদর্শনী স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

আরোও পড়ুন – দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে ত্রিমুখী সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন