শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় জনজীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) সকালে পালমগঞ্জ ও নয়ানগর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বহু বছর ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি, পানি নিষ্কাশন এবং চলাচলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যে দুটি খালে খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর একটি পালমগঞ্জ বৌ-বাজার বালুরঘাট হয়ে হাতুরপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরটি নয়ানগর হয়ে ইমামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কষ্ট কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে খন্দকার আবু আশফাক খালগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, এই খাল তারই একটি অংশ। তিনি আরও বলেন, দোহারবাসীর জন্য এটি গর্বের বিষয় যে জিয়াউর রহমান নিজে এই এলাকায় এসে কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। আজ আবার সেই খাল খনন কাজের মাধ্যমে ইতিহাসকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই খাল শুধু পানি চলাচলের পথ নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য, কৃষির সম্ভাবনা এবং মানুষের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত একটি সম্পদ। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে খালগুলো ভরাট হয়ে যায়, ফলে কৃষকরা চাষাবাদে ক্ষতির মুখে পড়েন। নতুন করে খাল খনন শুরু হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়বে, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন হবে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তৃতায় তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনরায় খাল খনন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তিনি দোহার ও ঢাকা-১ আসনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত প্রায় ১৭ বছরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও পলিতে ভরাট হয়ে পড়ে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ত এবং চাষের জমিতে সঠিকভাবে পানি যেত না। এখন খাল খনন শুরু হওয়ায় তারা নতুন আশার আলো দেখছেন। অনেক কৃষক মনে করছেন, আগামী মৌসুম থেকেই উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং জমিতে ফলন বাড়বে। এছাড়া মাছ চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
খাল উদ্বোধন শেষে দুপুরে সংসদ সদস্য দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের দালাল চক্র বরদাশত করা হবে না। রোগীদের হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পৃথক এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাইদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রবিউল ইসলাম, ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী, দোহার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ। তাদের উপস্থিতিতে দোহারের উন্নয়ন প্রত্যাশায় দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।
আরোও পড়ুন – পীরগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকায় ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
দোহারে খাল খনন উদ্বোধন, আবু আশফাকের ঐতিহাসিক মন্তব্য
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার দোহার উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং স্থানীয় জনজীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) সকালে পালমগঞ্জ ও নয়ানগর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বহু বছর ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি, পানি নিষ্কাশন এবং চলাচলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যে দুটি খালে খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর একটি পালমগঞ্জ বৌ-বাজার বালুরঘাট হয়ে হাতুরপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরটি নয়ানগর হয়ে ইমামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। খালগুলো পুনরুদ্ধার হলে বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কষ্ট কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে খন্দকার আবু আশফাক খালগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন, এই খাল তারই একটি অংশ। তিনি আরও বলেন, দোহারবাসীর জন্য এটি গর্বের বিষয় যে জিয়াউর রহমান নিজে এই এলাকায় এসে কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। আজ আবার সেই খাল খনন কাজের মাধ্যমে ইতিহাসকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই খাল শুধু পানি চলাচলের পথ নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য, কৃষির সম্ভাবনা এবং মানুষের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত একটি সম্পদ। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে খালগুলো ভরাট হয়ে যায়, ফলে কৃষকরা চাষাবাদে ক্ষতির মুখে পড়েন। নতুন করে খাল খনন শুরু হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়বে, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন হবে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তৃতায় তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনরায় খাল খনন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তিনি দোহার ও ঢাকা-১ আসনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত প্রায় ১৭ বছরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও পলিতে ভরাট হয়ে পড়ে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ত এবং চাষের জমিতে সঠিকভাবে পানি যেত না। এখন খাল খনন শুরু হওয়ায় তারা নতুন আশার আলো দেখছেন। অনেক কৃষক মনে করছেন, আগামী মৌসুম থেকেই উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং জমিতে ফলন বাড়বে। এছাড়া মাছ চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
খাল উদ্বোধন শেষে দুপুরে সংসদ সদস্য দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের দালাল চক্র বরদাশত করা হবে না। রোগীদের হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পৃথক এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাইদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রবিউল ইসলাম, ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী, দোহার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ। তাদের উপস্থিতিতে দোহারের উন্নয়ন প্রত্যাশায় দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়।
আরোও পড়ুন – পীরগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকায় ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন