রূপগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাই, সাঁড়াশি অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার

মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়, ( নারায়ণগঞ্জ )

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাই-এর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ৫ মে ভোরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায়, যেখানে পুলিশের একটি দল নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে একজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মোঃ শামীম মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করতে সহকারী পুলিশ সুপার (গ) সার্কেল মোঃ মেহেদী ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ.আইচ. এম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। সফলভাবে গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি দল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই করে নেয়।

ঘটনার সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়লেও হামলাকারীরা জোরপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় পুলিশের সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একাধিক সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, পুরো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে গেলেও পরিস্থিতি মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এই আসামি ছিনতাই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ লাইন্সের অতিরিক্ত ফোর্স, র‍্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু করা হয়। এলাকায় একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সাঁড়াশি অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা ও আসামি ছিনতাই-এ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট ৪০ জন নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামি ছিনতাই-এর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের আসামি ছিনতাই বা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – মাসদাইরে র‍্যাব-১১ অভিযান: অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১৩, চাঞ্চল্য

রূপগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাই, সাঁড়াশি অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার

মে ৭, ২০২৬

মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়, ( নারায়ণগঞ্জ )

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাই-এর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ৫ মে ভোরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায়, যেখানে পুলিশের একটি দল নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে একজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মোঃ শামীম মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করতে সহকারী পুলিশ সুপার (গ) সার্কেল মোঃ মেহেদী ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ.আইচ. এম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। সফলভাবে গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি দল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই করে নেয়।

ঘটনার সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়লেও হামলাকারীরা জোরপূর্বক গ্রেফতারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় পুলিশের সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একাধিক সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, পুরো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে গেলেও পরিস্থিতি মুহূর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়। এই আসামি ছিনতাই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ লাইন্সের অতিরিক্ত ফোর্স, র‍্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান শুরু করা হয়। এলাকায় একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই সাঁড়াশি অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা ও আসামি ছিনতাই-এ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট ৪০ জন নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামি ছিনতাই-এর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের আসামি ছিনতাই বা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – মাসদাইরে র‍্যাব-১১ অভিযান: অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১৩, চাঞ্চল্য