হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় পরিচালিত মাসদাইর র্যাব অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত এই এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১) একটি বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধ চক্রের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে দেয়। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, নজরদারি সরঞ্জাম ও নগদ অর্থসহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই অভিযান এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্ক দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মাসদাইর র্যাব অভিযান পরিচালনার আগে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে র্যাবের একটি গোয়েন্দা দল তথ্য যাচাই করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালালে তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং পরবর্তীতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া মাসদাইর র্যাব অভিযান রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। অভিযানের সময় অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আবারও হামলার চেষ্টা চালায়, তবে র্যাব সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অভিযানে ধরা পড়ে চক্রের সক্রিয় সদস্যরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে জানা গেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকার অপরাধ চক্রের বড় একটি অংশ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ সোহেল রানা (৪০), মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মোঃ শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মোঃ ইমন প্রধান (২৬), মোঃ আকাশ (৩০), মোঃ রুবেল (৩৭), মোঃ আরাফাত হোসেন (২৮), মোঃ সুজন (৩২), মোঃ হৃদয় মিয়া (৩২), মোঃ টুটুল খান (৩৮) এবং মোঃ রেজাউল করিম (৪৮)। তাদের প্রত্যেকেই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যৎ অভিযান পরিচালনায় সহায়ক হবে।
অভিযান শেষে আটককৃতদের আস্তানা তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১০টি ছুরি-চাকু, ৭টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি রামদা এবং ৩টি চাপাতি। এছাড়া নজরদারির জন্য ব্যবহৃত ৪টি সিসি ক্যামেরা ও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়। নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা ছাড়াও ২৩৫ কেজি গাঁজা এবং ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যা এই মাসদাইর র্যাব অভিযান-এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসদাইর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায়ই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আতঙ্কে বসবাস করতেন। এই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের ফতুল্লা থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ পলাতক থাকলে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণও এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
আরোও পড়ুন- নারায়ণগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা: আলোচনায় আশা চৌধুরী ও তার সহযোগীরা
মাসদাইরে র্যাব-১১ অভিযান: অস্ত্র-মাদকসহ আটক ১৩, চাঞ্চল্য
হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় পরিচালিত মাসদাইর র্যাব অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত এই এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১) একটি বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধ চক্রের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে দেয়। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, নজরদারি সরঞ্জাম ও নগদ অর্থসহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই অভিযান এলাকায় দীর্ঘদিনের আতঙ্ক দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মাসদাইর র্যাব অভিযান পরিচালনার আগে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে র্যাবের একটি গোয়েন্দা দল তথ্য যাচাই করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালালে তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং পরবর্তীতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া মাসদাইর র্যাব অভিযান রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। অভিযানের সময় অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আবারও হামলার চেষ্টা চালায়, তবে র্যাব সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অভিযানে ধরা পড়ে চক্রের সক্রিয় সদস্যরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে জানা গেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকার অপরাধ চক্রের বড় একটি অংশ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ সোহেল রানা (৪০), মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মোঃ শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মোঃ ইমন প্রধান (২৬), মোঃ আকাশ (৩০), মোঃ রুবেল (৩৭), মোঃ আরাফাত হোসেন (২৮), মোঃ সুজন (৩২), মোঃ হৃদয় মিয়া (৩২), মোঃ টুটুল খান (৩৮) এবং মোঃ রেজাউল করিম (৪৮)। তাদের প্রত্যেকেই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যৎ অভিযান পরিচালনায় সহায়ক হবে।
অভিযান শেষে আটককৃতদের আস্তানা তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১০টি ছুরি-চাকু, ৭টি চাইনিজ কুড়াল, ২টি রামদা এবং ৩টি চাপাতি। এছাড়া নজরদারির জন্য ব্যবহৃত ৪টি সিসি ক্যামেরা ও একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়। নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা ছাড়াও ২৩৫ কেজি গাঁজা এবং ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যা এই মাসদাইর র্যাব অভিযান-এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
র্যাব-১১ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাসদাইর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায়ই এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আতঙ্কে বসবাস করতেন। এই অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে। র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের ফতুল্লা থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ পলাতক থাকলে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণও এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
আরোও পড়ুন- নারায়ণগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা: আলোচনায় আশা চৌধুরী ও তার সহযোগীরা