গোদাগাড়ীতে এসআই জুয়েল বিতর্ক: মাদক সিন্ডিকেট ও মাসোয়ারা অভিযোগ

সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধার হওয়া মাদক নিয়ে কারসাজি এবং বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন এসআই জুয়েল। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রয়েছে এসআই জুয়েল-এর। বিশেষ করে মাদক উদ্ধার অভিযানের পর জব্দ করা আলামত নিয়ে নানা ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার করা আসল মাদকের একটি অংশ গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং পরে তার জায়গায় নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়।

গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আলিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) দায়ের করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইনের মধ্যে অধিকাংশই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং বাকি অংশের জায়গায় অন্য বস্তু সংযুক্ত করে জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসআই জুয়েল-এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। অতীতেও উদ্ধার হওয়া মাদক নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ফলে অভিযোগগুলো নিয়ে জনমনে আরও কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগের পাশাপাশি ফসলি জমির টপসয়েল বা ওপরের উর্বর মাটি কাটার সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি, যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে “রহিম” ছদ্মনামে কথা বলেন, দাবি করেন – মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় গিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে বিভিন্ন সময়। তবে বর্তমান ওসির সঙ্গে এ ধরনের কোনো লেনদেন হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া উপজেলার বিনোদনকেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘিরেও মাসিক চাঁদা বা মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে থানায় ডেকে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হয়রানি, মামলা জটিলতা কিংবা বিভিন্ন চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে এসআই জুয়েল-এর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, সাধারণ মানুষের পুলিশের প্রতি আস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। তাই ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ নিয়ে বিতর্ক, সামাজিক মাধ্যমে উঠছে নানা অভিযোগ

গোদাগাড়ীতে এসআই জুয়েল বিতর্ক: মাদক সিন্ডিকেট ও মাসোয়ারা অভিযোগ

মে ১৫, ২০২৬

সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধার হওয়া মাদক নিয়ে কারসাজি এবং বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন এসআই জুয়েল। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রয়েছে এসআই জুয়েল-এর। বিশেষ করে মাদক উদ্ধার অভিযানের পর জব্দ করা আলামত নিয়ে নানা ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উদ্ধার করা আসল মাদকের একটি অংশ গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং পরে তার জায়গায় নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়।

গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আলিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) দায়ের করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ১০০ গ্রাম অরিজিনাল হেরোইনের মধ্যে অধিকাংশই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং বাকি অংশের জায়গায় অন্য বস্তু সংযুক্ত করে জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসআই জুয়েল-এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। অতীতেও উদ্ধার হওয়া মাদক নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ফলে অভিযোগগুলো নিয়ে জনমনে আরও কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগের পাশাপাশি ফসলি জমির টপসয়েল বা ওপরের উর্বর মাটি কাটার সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি, যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে “রহিম” ছদ্মনামে কথা বলেন, দাবি করেন – মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় গিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে বিভিন্ন সময়। তবে বর্তমান ওসির সঙ্গে এ ধরনের কোনো লেনদেন হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া উপজেলার বিনোদনকেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘিরেও মাসিক চাঁদা বা মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে থানায় ডেকে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হয়রানি, মামলা জটিলতা কিংবা বিভিন্ন চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে এসআই জুয়েল-এর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, সাধারণ মানুষের পুলিশের প্রতি আস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। তাই ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জ নিকাবী গ্রুপ নিয়ে বিতর্ক, সামাজিক মাধ্যমে উঠছে নানা অভিযোগ