মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বুধবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে এই নিয়োগকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে “মাভাবিপ্রবি নতুন ভিসি” ইস্যুটি এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষকতা করে আসছেন। একাডেমিক দক্ষতা, গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জন্য তিনি শিক্ষা অঙ্গনে সুপরিচিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, গবেষণা প্রকল্প এবং উচ্চশিক্ষা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, “মাভাবিপ্রবি নতুন ভিসি” হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গবেষণা খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছেন, তারা নতুন প্রশাসনের কাছে শিক্ষাবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, সেশনজট, গবেষণা তহবিলের সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে “মাভাবিপ্রবি নতুন ভিসি” নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এখন অনেকটাই বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই। ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা মাভাবিপ্রবিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে। তারা আশা করছেন, গবেষণার মান উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় নতুন উপাচার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন উপাচার্যকে ঘিরে নানা আলোচনা দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
আরোও পড়ুন – ইউজিসি গবেষণা প্রকল্পে মাভাবিপ্রবির ছয় অনুমোদন, গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা
মাভাবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম | শিক্ষার্থীদের নতুন প্রত্যাশা
মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বুধবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে এই নিয়োগকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে “মাভাবিপ্রবি নতুন ভিসি” ইস্যুটি এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষকতা করে আসছেন। একাডেমিক দক্ষতা, গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার জন্য তিনি শিক্ষা অঙ্গনে সুপরিচিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, গবেষণা প্রকল্প এবং উচ্চশিক্ষা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, “মাভাবিপ্রবি নতুন ভিসি” হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গবেষণা খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছেন, তারা নতুন প্রশাসনের কাছে শিক্ষাবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকট, সেশনজট, গবেষণা তহবিলের সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে “মাভাবিপ্রবি নতুন ভিসি” নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা এখন অনেকটাই বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই। ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা মাভাবিপ্রবিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে। তারা আশা করছেন, গবেষণার মান উন্নয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় নতুন উপাচার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন উপাচার্যকে ঘিরে নানা আলোচনা দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
আরোও পড়ুন – ইউজিসি গবেষণা প্রকল্পে মাভাবিপ্রবির ছয় অনুমোদন, গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা