স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও ব্রিজহীন স্কুল, ঝুঁকিতে ছাপড়াখালীর শিক্ষার্থীরা

মোঃ নবীন হোসেন, বাগেরহাটঃ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। জেলার ১১ নম্বর বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ছাপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করতে হয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। একটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসার এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয় দুটিতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠগ্রহণ করে। কিন্তু বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হলে তাদের প্রতিদিন একটি খাল অতিক্রম করতে হয়। বছরের অধিকাংশ সময় নৌকাই একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কিংবা জোয়ারের সময় খাল পারাপার আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ছোট ছোট শিশুদের বই-খাতা হাতে গাদাগাদি করে নৌকায় উঠতে দেখা যায়, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অভিভাবকদের ভাষ্য, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অনেক সময় নৌকা না থাকায় দীর্ঘক্ষণ খালের পাড়ে অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। আবার বৃষ্টির দিনে বা জোয়ারের পানিতে নৌকা চলাচল ব্যাহত হলে স্কুলে উপস্থিতিও কমে যায়। ফলে লেখাপড়ার ধারাবাহিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, অনেক শিক্ষার্থী শুধু এই দুর্ভোগের কারণেই নিয়মিত স্কুলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। একটি ব্রিজের অভাবে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের আশপাশের রাস্তাগুলোর কিছু উন্নয়ন হলেও খালের ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে প্রতিদিনের খাল পারাপার যেন এখানকার শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের সংগ্রাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত একটি টেকসই ব্রিজ বা পুল নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। এলাকাবাসী আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়ে এসে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হওয়া উন্নয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তারা মনে করেন, একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণে খুব বেশি ব্যয় প্রয়োজন না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বছরের পর বছর এই সমস্যা স্থায়ী হয়ে আছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ বর্ষাকালে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে নৌকা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। যাতে প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ খাল পারাপার থেকে মুক্তি পায় ছাপড়াখালীর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের স্বপ্ন, ভয় নয়। নিরাপদ পথেই স্কুলে পৌঁছাবে আগামী প্রজন্ম।

আরোও পড়ুন- ফুটপাত ফিরছে পথচারীর দখলে: নলছিটিতে বড় অভিযান

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও ব্রিজহীন স্কুল, ঝুঁকিতে ছাপড়াখালীর শিক্ষার্থীরা

মে ১৫, ২০২৬

মোঃ নবীন হোসেন, বাগেরহাটঃ

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত এখনো স্বপ্নই রয়ে গেছে। জেলার ১১ নম্বর বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ছাপড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করতে হয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। একটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসার এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয় দুটিতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠগ্রহণ করে। কিন্তু বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হলে তাদের প্রতিদিন একটি খাল অতিক্রম করতে হয়। বছরের অধিকাংশ সময় নৌকাই একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কিংবা জোয়ারের সময় খাল পারাপার আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ছোট ছোট শিশুদের বই-খাতা হাতে গাদাগাদি করে নৌকায় উঠতে দেখা যায়, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অভিভাবকদের ভাষ্য, সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অনেক সময় নৌকা না থাকায় দীর্ঘক্ষণ খালের পাড়ে অপেক্ষা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। আবার বৃষ্টির দিনে বা জোয়ারের পানিতে নৌকা চলাচল ব্যাহত হলে স্কুলে উপস্থিতিও কমে যায়। ফলে লেখাপড়ার ধারাবাহিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, অনেক শিক্ষার্থী শুধু এই দুর্ভোগের কারণেই নিয়মিত স্কুলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। একটি ব্রিজের অভাবে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের আশপাশের রাস্তাগুলোর কিছু উন্নয়ন হলেও খালের ওপর কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে প্রতিদিনের খাল পারাপার যেন এখানকার শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের সংগ্রাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত একটি টেকসই ব্রিজ বা পুল নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। এলাকাবাসী আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সময়ে এসে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হওয়া উন্নয়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তারা মনে করেন, একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণে খুব বেশি ব্যয় প্রয়োজন না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বছরের পর বছর এই সমস্যা স্থায়ী হয়ে আছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ বর্ষাকালে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে নৌকা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। যাতে প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ খাল পারাপার থেকে মুক্তি পায় ছাপড়াখালীর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের স্বপ্ন, ভয় নয়। নিরাপদ পথেই স্কুলে পৌঁছাবে আগামী প্রজন্ম।

আরোও পড়ুন- ফুটপাত ফিরছে পথচারীর দখলে: নলছিটিতে বড় অভিযান