পটুয়াখালীতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে বৃহৎ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) জুমার নামাজের পর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে চলমান মুসলিম নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পটুয়াখালী মারকাজ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা গোলচত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। স্থানীয় আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা বলেন, চলমান মুসলিম নির্যাতন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী। তিনি তার বক্তব্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা, মসজিদ ভাঙচুর এবং নারী নির্যাতনের যেসব ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে, তা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা মুসলিম নির্যাতন বন্ধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তারা বলেন, অনেক পরিবার ঘরছাড়া অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হচ্ছে। সমাবেশে বক্তারা জাতিসংঘ, ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা মুসলিম বিশ্বের নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মুসলিম নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যায়।

সমাবেশে আরও বলা হয়, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা মানবাধিকারের পরিপন্থী। বক্তারা দাবি করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তারা আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। এছাড়া, মুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

চৌরাস্তা গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত তৌহিদী জনতা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নির্যাতিত মুসলিমদের নিরাপত্তা, বিশ্বশান্তি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও তারা মানবাধিকার ও মুসলিম নিরাপত্তার প্রশ্নে জনসচেতনতা তৈরিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবেন।

আরোও পড়ুন – ১১ বছরের পলাতক জীবন শেষে মহিপুরে গ্রেফতার সাজাপ্রাপ্ত আসামি

পটুয়াখালীতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি

মে ১৫, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে বৃহৎ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) জুমার নামাজের পর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে চলমান মুসলিম নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পটুয়াখালী মারকাজ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা গোলচত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। স্থানীয় আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা বলেন, চলমান মুসলিম নির্যাতন শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী। তিনি তার বক্তব্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা, মসজিদ ভাঙচুর এবং নারী নির্যাতনের যেসব ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে, তা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা মুসলিম নির্যাতন বন্ধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তারা বলেন, অনেক পরিবার ঘরছাড়া অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হচ্ছে। সমাবেশে বক্তারা জাতিসংঘ, ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা মুসলিম বিশ্বের নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মুসলিম নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যায়।

সমাবেশে আরও বলা হয়, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা মানবাধিকারের পরিপন্থী। বক্তারা দাবি করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তারা আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। এছাড়া, মুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

চৌরাস্তা গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত তৌহিদী জনতা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নির্যাতিত মুসলিমদের নিরাপত্তা, বিশ্বশান্তি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও তারা মানবাধিকার ও মুসলিম নিরাপত্তার প্রশ্নে জনসচেতনতা তৈরিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবেন।

আরোও পড়ুন – ১১ বছরের পলাতক জীবন শেষে মহিপুরে গ্রেফতার সাজাপ্রাপ্ত আসামি