বাঁশখালীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, মোবাইল কোর্টে এক বছরের কারাদণ্ড

মুহাঃ এনামুল আহাদ এনাম, স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল ওই ব্যক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদক বিস্তারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় পুলিশ নজরদারি জোরদার করে। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি। বাঁশখালীতে ইয়াবা বিরোধী এই অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৬ মে ২০২৬) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে বাঁশখালী থানার উদ্যোগে উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খুদুকখালী মান্নান পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মোঃ হেফাজ (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বাঁশখালীতে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদক নির্মূলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আটককৃত মোঃ হেফাজ ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী মান্নান পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মালেক বলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, বাঁশখালীতে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে পুলিশের এমন অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।

পরে আটক ব্যক্তিকে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাকে ০১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের এই রায়ের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বাঁশখালীতে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক এবং সেকেন্ড অফিসার আরিফ হোসেন জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তারা বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে রক্ষায় অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পুলিশের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

আরোও পড়ুন – রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১

বাঁশখালীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, মোবাইল কোর্টে এক বছরের কারাদণ্ড

মে ১৬, ২০২৬

মুহাঃ এনামুল আহাদ এনাম, স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল ওই ব্যক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদক বিস্তারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় পুলিশ নজরদারি জোরদার করে। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি। বাঁশখালীতে ইয়াবা বিরোধী এই অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৬ মে ২০২৬) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে বাঁশখালী থানার উদ্যোগে উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খুদুকখালী মান্নান পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মোঃ হেফাজ (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বাঁশখালীতে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদক নির্মূলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আটককৃত মোঃ হেফাজ ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী মান্নান পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মালেক বলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, বাঁশখালীতে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে পুলিশের এমন অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।

পরে আটক ব্যক্তিকে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাকে ০১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতের এই রায়ের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বাঁশখালীতে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক এবং সেকেন্ড অফিসার আরিফ হোসেন জানান, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তারা বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে রক্ষায় অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পুলিশের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

আরোও পড়ুন – রাউজানে পুলিশের অভিযানে এলজি, কার্তুজ ও ছোরা উদ্ধার; গ্রেফতার ১