বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) রাতে শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এমন ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাধন (১৯) এবং উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার রকি (১৯)। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি শহরের পুলিশ প্লাজার সপ্তম তলায় অবস্থিত ‘লাক জোন’ নামের একটি দোকানে যান। সেখানে কাওছার, বাধন, সাদিক ও আরও একজন উপস্থিত ছিলেন। কিছু সময় আড্ডার পর তারা একসঙ্গে মদ্যপানের পরিকল্পনা করে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করা হয়। এরপর তারা ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের দিকে যায়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে রকি নামে আরও একজন যোগ দেন। সেখানে মদ্যপানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তরুণী প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এই বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী গুরুতর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর বাধন তরুণীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা বিগ বাজার এলাকায় পৌঁছালে তরুণী চিৎকার করে স্থানীয়দের সহায়তা চান। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বাধন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, মেডিকেল পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, তরুণদের মধ্যে মাদক ও অপরাধ প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে নির্জন স্থানে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা রোধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন।
আরোও পড়ুন – বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা: নতুন এলাকা যুক্ত, বদলে যাচ্ছে নগর উন্নয়নের চিত্র
বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩, পলাতকদের খুঁজছে পুলিশ
বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) রাতে শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এমন ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাধন (১৯) এবং উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার রকি (১৯)। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি শহরের পুলিশ প্লাজার সপ্তম তলায় অবস্থিত ‘লাক জোন’ নামের একটি দোকানে যান। সেখানে কাওছার, বাধন, সাদিক ও আরও একজন উপস্থিত ছিলেন। কিছু সময় আড্ডার পর তারা একসঙ্গে মদ্যপানের পরিকল্পনা করে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করা হয়। এরপর তারা ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের দিকে যায়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে রকি নামে আরও একজন যোগ দেন। সেখানে মদ্যপানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তরুণী প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এই বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী গুরুতর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর বাধন তরুণীকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা বিগ বাজার এলাকায় পৌঁছালে তরুণী চিৎকার করে স্থানীয়দের সহায়তা চান। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বাধন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও জানান, মেডিকেল পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, তরুণদের মধ্যে মাদক ও অপরাধ প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে নির্জন স্থানে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা রোধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে বগুড়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন।
আরোও পড়ুন – বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা: নতুন এলাকা যুক্ত, বদলে যাচ্ছে নগর উন্নয়নের চিত্র