মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার মাত্র আটদিনের মাথায় স্বামীর নির্যাতনে মরিয়ম বেগম নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্বামী নাসির সিকদার ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) সকালে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের দারোগারতবক গ্রাম থেকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কলাপাড়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও দেশে ফেরার পর থেকেই স্বামী নাসির সিকদার তাঁর কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য কলহ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার বিকেলেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে নাসির সিকদার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে ছেলে ও আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে ঘরে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে নাসির সিকদার আবারও মরিয়ম বেগমের ওপর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনায় সকালে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার ভয়াবহতা ও রহস্যজনক দিক বিবেচনায় পটুয়াখালী থেকে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আলামত সংগ্রহ, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের ছেলে ও স্বজনদের দাবি, বিদেশে থাকার সময় মরিয়ম বেগম নিয়মিত পরিবারে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু সেই অর্থ নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো। স্থানীয়দের ভাষ্য, নাসির সিকদার প্রায় সময়ই টাকার জন্য স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। ফলে এই প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত নাসির সিকদার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পিবিআই ও অন্যান্য সংস্থার তদন্ত কার্যক্রম শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে বিদেশ ফেরত এক নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, প্রবাসীদের উপার্জনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নারী প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এই প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরোও পড়ুন – কলাপাড়ায় জেলেদের চাল উদ্ধার: মধ্যরাতে ইউএনও’র অভিযানে ২৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ
কলাপাড়ায় প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা: টাকার জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার মাত্র আটদিনের মাথায় স্বামীর নির্যাতনে মরিয়ম বেগম নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্বামী নাসির সিকদার ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) সকালে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের দারোগারতবক গ্রাম থেকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কলাপাড়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। বিদেশে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও দেশে ফেরার পর থেকেই স্বামী নাসির সিকদার তাঁর কাছে টাকা দাবি করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য কলহ দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার বিকেলেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে নাসির সিকদার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে ছেলে ও আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে ঘরে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে নাসির সিকদার আবারও মরিয়ম বেগমের ওপর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনায় সকালে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার ভয়াবহতা ও রহস্যজনক দিক বিবেচনায় পটুয়াখালী থেকে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আলামত সংগ্রহ, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের ছেলে ও স্বজনদের দাবি, বিদেশে থাকার সময় মরিয়ম বেগম নিয়মিত পরিবারে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু সেই অর্থ নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো। স্থানীয়দের ভাষ্য, নাসির সিকদার প্রায় সময়ই টাকার জন্য স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। ফলে এই প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযুক্ত নাসির সিকদার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পিবিআই ও অন্যান্য সংস্থার তদন্ত কার্যক্রম শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে বিদেশ ফেরত এক নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, প্রবাসীদের উপার্জনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নারী প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এই প্রবাসী গৃহবধূ হত্যা ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরোও পড়ুন – কলাপাড়ায় জেলেদের চাল উদ্ধার: মধ্যরাতে ইউএনও’র অভিযানে ২৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ