মুহাঃ এনামুল আহাদ (এনাম),স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়িতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভে ঘাতক বিআরটিসি বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন পাইন্দং ইউনিয়নের করবল্লা টিলার মালেক শাহ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এজাহার মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান (৫০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (১৮)। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবা-ছেলে দুজনই পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন। তারা বৃন্দাবনহাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ পরিচালনা করতেন এবং প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। তবে পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নেয় দুইজন মানুষের প্রাণ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহজাহান ও আরিফ মোটরসাইকেলে করে আমতল এলাকা অতিক্রম করার সময় খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা দুজনই সড়কে ছিটকে পড়েন এবং বাসের চাকায় পিষ্ট হন। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা দেখে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। এতে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িমুখী সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে তার আগেই বাসটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণেই বারবার এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার, পর্যাপ্ত ট্রাফিক সিগন্যাল ও নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা এলাকার মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাসের আগুন নেভানো হয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরোও পড়ুন – ফটিকছড়িতে ফেসবুক আইডি হ্যাক নিয়ে সংঘর্ষে ছোট ভাই খুন
ফটিকছড়িতে বাসের চাপায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের, ক্ষোভে বাসে আগুন
মুহাঃ এনামুল আহাদ (এনাম),স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়িতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভে ঘাতক বিআরটিসি বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন পাইন্দং ইউনিয়নের করবল্লা টিলার মালেক শাহ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এজাহার মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান (৫০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (১৮)। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবা-ছেলে দুজনই পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন। তারা বৃন্দাবনহাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ পরিচালনা করতেন এবং প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। তবে পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক এই ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নেয় দুইজন মানুষের প্রাণ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহজাহান ও আরিফ মোটরসাইকেলে করে আমতল এলাকা অতিক্রম করার সময় খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তারা দুজনই সড়কে ছিটকে পড়েন এবং বাসের চাকায় পিষ্ট হন। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা দেখে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটি আটক করে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা। এতে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িমুখী সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে তার আগেই বাসটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা বলছেন, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণেই বারবার এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড ব্রেকার, পর্যাপ্ত ট্রাফিক সিগন্যাল ও নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ফটিকছড়ি বাস দুর্ঘটনা এলাকার মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাসের আগুন নেভানো হয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরোও পড়ুন – ফটিকছড়িতে ফেসবুক আইডি হ্যাক নিয়ে সংঘর্ষে ছোট ভাই খুন