সেলিম হোসেন রুবেল,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সালা ও দুলাভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলে থাকা এক নারী। সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার-চানপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খাড়িতা খড়িকাটা কাঠের সাঁকো এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
নিহতরা হলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৮) এবং একই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস (২৪)। স্থানীয়রা জানান, তারা পারিবারিক কাজে ও ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে এই মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা তাদের জীবন কেড়ে নেয়। আহত নারীকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমন তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌসকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিশ্চিন্তা বাজার হয়ে চানপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সড়কে চলাচলরত দুটি ভুটভুটি ভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়েন। রাস্তার ওপর ধান শুকানোর জন্য ছড়িয়ে রাখা খড়ের ওপর মোটরসাইকেলের চাকা উঠে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমন ও ফেরদৌস নিহত হন। এই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ধান কাটার মৌসুম এলেই অনেক কৃষক সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকাতে দেন। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দিন দিন বাড়ছে। তারা আরও বলেন, নিশ্চিন্তা বাজার-চানপাড়া সড়কটি সরু হওয়ায় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক এই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল ইসলাম জানান, সড়কে খড় থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সড়কে ধান বা খড় না শুকানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রামীণ সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে এমন প্রাণঘাতী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় প্রশাসনের আরও সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে চালকদেরও সতর্কভাবে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরোও পড়ুন – জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় এনজিওকর্মীর মৃত্যু, নিহত BRAC কর্মকর্তা
জয়পুরহাটে খড়ের ফাঁদে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, পিকআপের চাপায় সালা-দুলাভাই নিহত
সেলিম হোসেন রুবেল,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ঈদকে সামনে রেখে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সালা ও দুলাভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলে থাকা এক নারী। সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার-চানপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খাড়িতা খড়িকাটা কাঠের সাঁকো এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
নিহতরা হলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৮) এবং একই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস (২৪)। স্থানীয়রা জানান, তারা পারিবারিক কাজে ও ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে এই মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা তাদের জীবন কেড়ে নেয়। আহত নারীকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমন তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌসকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নিশ্চিন্তা বাজার হয়ে চানপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সড়কে চলাচলরত দুটি ভুটভুটি ভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়েন। রাস্তার ওপর ধান শুকানোর জন্য ছড়িয়ে রাখা খড়ের ওপর মোটরসাইকেলের চাকা উঠে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমন ও ফেরদৌস নিহত হন। এই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ধান কাটার মৌসুম এলেই অনেক কৃষক সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকাতে দেন। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা দিন দিন বাড়ছে। তারা আরও বলেন, নিশ্চিন্তা বাজার-চানপাড়া সড়কটি সরু হওয়ায় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক এই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল ইসলাম জানান, সড়কে খড় থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সড়কে ধান বা খড় না শুকানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রামীণ সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে এমন প্রাণঘাতী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় প্রশাসনের আরও সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে চালকদেরও সতর্কভাবে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরোও পড়ুন – জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় এনজিওকর্মীর মৃত্যু, নিহত BRAC কর্মকর্তা