মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে মো. রানা (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকার কালাবদর নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলেরা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ কিশোরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর তীব্র স্রোত উদ্ধার কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নিখোঁজ রানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কয়েকদিন আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে আসেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রলারে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাত্রাপথে ট্রলারের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে যায়। পরে তিনি সরাসরি নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যেই পানির স্রোতে তলিয়ে যান রানা। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ চিৎকার শুনে যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সবাই মিলে দ্রুত উদ্ধার চেষ্টা শুরু করেন। ট্রলারে থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে তাকিয়ে রানাকে খোঁজার চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে তাকে আর দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, দুর্ঘটনার খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কিশোর নিখোঁজ থাকার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীর বিভিন্ন অংশে জাল ফেলে এবং ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালাবদর নদীতে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় উদ্ধার কাজে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তবুও নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল জানান, কিশোর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে কিশোর নিখোঁজ হওয়ার এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীপথে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল। অনেকেই ট্রলারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিখোঁজ রানাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – উজিরপুরে হাসপাতাল দালালচক্র সক্রিয়, রোগী হয়রানি চরমে
মেহেন্দীগঞ্জে ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে কিশোর নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে মো. রানা (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকার কালাবদর নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলেরা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ কিশোরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর তীব্র স্রোত উদ্ধার কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নিখোঁজ রানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কয়েকদিন আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে আসেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রলারে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাত্রাপথে ট্রলারের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে যায়। পরে তিনি সরাসরি নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যেই পানির স্রোতে তলিয়ে যান রানা। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর হঠাৎ চিৎকার শুনে যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সবাই মিলে দ্রুত উদ্ধার চেষ্টা শুরু করেন। ট্রলারে থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে তাকিয়ে রানাকে খোঁজার চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে তাকে আর দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, দুর্ঘটনার খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কিশোর নিখোঁজ থাকার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। নদীর বিভিন্ন অংশে জাল ফেলে এবং ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালাবদর নদীতে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় উদ্ধার কাজে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তবুও নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল জানান, কিশোর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে কিশোর নিখোঁজ হওয়ার এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীপথে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল। অনেকেই ট্রলারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নিখোঁজ রানাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – উজিরপুরে হাসপাতাল দালালচক্র সক্রিয়, রোগী হয়রানি চরমে