মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতির কারণে দেশে কিডনি রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের এই নীরব সংকট মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই—এই বাস্তবতা সামনে রেখে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) একটি সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে আয়োজিত এই সেমিনারে কিডনি রোগের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল কিডনি রোগকে একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা। বক্তারা জানান, আধুনিক জীবনের চাপ, ফাস্টফুড নির্ভরতা, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার কারণে কিডনি রোগ নীরবে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে। সময়মতো সচেতন না হলে এই রোগ দীর্ঘমেয়াদে জীবনমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ সুস্থ সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা থেকেই একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি নিজেরা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে এবং আশপাশের মানুষকে সচেতন করে, তাহলে কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল্লাহ কায়সার কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এই দুটি রোগ কিডনি বিকলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদেকীন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কিডনি রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে তারা সমাজে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।
রোটারি ক্লাব ও রোটার্যাক্ট ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা কিডনি রোগ প্রতিরোধে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা ও পরামর্শ থেকে উপকৃত হওয়ার কথা জানান। অনেক শিক্ষার্থী তাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও জানান, কিডনি রোগ প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় তেমন উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণ বয়স থেকেই সচেতন হওয়া সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা কিডনি রোগ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞরা ধৈর্যসহকারে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং স্বাস্থ্য সচেতন জীবন গড়ে তোলার জন্য বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সার্বিকভাবে এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনের পরিবর্তন জরুরি: মাভাবিপ্রবিতে সচেতনতামূলক সেমিনার
মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতির কারণে দেশে কিডনি রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের এই নীরব সংকট মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই—এই বাস্তবতা সামনে রেখে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) একটি সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে আয়োজিত এই সেমিনারে কিডনি রোগের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল কিডনি রোগকে একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা। বক্তারা জানান, আধুনিক জীবনের চাপ, ফাস্টফুড নির্ভরতা, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার কারণে কিডনি রোগ নীরবে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে। সময়মতো সচেতন না হলে এই রোগ দীর্ঘমেয়াদে জীবনমানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ সুস্থ সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা থেকেই একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি নিজেরা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে এবং আশপাশের মানুষকে সচেতন করে, তাহলে কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল্লাহ কায়সার কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এই দুটি রোগ কিডনি বিকলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদেকীন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কিডনি রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে তারা সমাজে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।
রোটারি ক্লাব ও রোটার্যাক্ট ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা কিডনি রোগ প্রতিরোধে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা ও পরামর্শ থেকে উপকৃত হওয়ার কথা জানান। অনেক শিক্ষার্থী তাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও জানান, কিডনি রোগ প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় তেমন উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণ বয়স থেকেই সচেতন হওয়া সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা কিডনি রোগ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করেন। বিশেষজ্ঞরা ধৈর্যসহকারে সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং স্বাস্থ্য সচেতন জীবন গড়ে তোলার জন্য বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সার্বিকভাবে এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।