
হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করা শীর্ষ সন্ত্রাসী মাহবুবুর রহমান ওরফে ‘কাইল্লা রক্সি’ অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাইল্লা রক্সি গ্রেপ্তার হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর রহমান (৩৫) সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকার বাসিন্দা এবং নজরুল ইসলাম নজুর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে সোনারগাঁও ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, কাইল্লা রক্সি গ্রেপ্তার হওয়ায় তার নেতৃত্বাধীন অপরাধচক্র বড় ধরনের ধাক্কা খাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, কাইল্লা রক্সি এলাকায় একজন ভয়ংকর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিল। সে পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে অর্থ আদায় করত। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ তার ভয়ে আতঙ্কে জীবনযাপন করছিলেন। অবশেষে কাইল্লা রক্সি গ্রেপ্তার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, সে সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে টেকনাফ থেকে ইয়াবা ও ফেনসিডিল এনে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় সরবরাহ করত। একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে সে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিল। এছাড়াও জমি দখল, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, কাইল্লা রক্সি গ্রেপ্তার হওয়ায় এসব অপরাধ কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সোনারগাঁও, সিদ্ধিরগঞ্জ ও গজারিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি মামলা রয়েছে। তাকে ইতোমধ্যে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে র্যাব-১১ এর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কাইল্লা রক্সি গ্রেপ্তার অভিযানটি ছিল পরিকল্পিত ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক।
আরোও পড়ুন - প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক আফসারা আফরোজ