আকরাম হোসেন,( বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, শরীয়াহ মোতাবেক সম্পত্তি বণ্টন না হওয়ায় এক বৃদ্ধা ও তার সন্তানরা প্রায় ৪০ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুটিখালী ইউনিয়নের ভাটখালী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার মৃধার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়েই এই বিরোধের সূত্রপাত, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার মৃধা জীবদ্দশায় তিনটি বিয়ে করেন এবং তার পরিবারে একাধিক সন্তান রয়েছে। প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে, দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে এবং তৃতীয় সংসারে একমাত্র কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর থেকেই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে, যখন তার দুই ছেলে সুলাইমান মৃধা ও ইউনুস মৃধা সম্পত্তির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, যদিও কিছু জমি পরবর্তীতে বোনদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে, তবে তা শরীয়াহ অনুযায়ী প্রাপ্য অংশের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে তৃতীয় স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তিনি এখন পঞ্চকরণ ইউনিয়নের একটি ছোট কুঠুরি ঘরে বসবাস করছেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন। এই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ তার জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, যেখানে বার্ধক্যে তিনি একেবারে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধাটি দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন এবং পরিবারের কাছ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পান না। তারা আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই জটিল বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে ইউনুস মৃধার সহোদরা সালেহা বেগম, হাজেরা বেগম ও আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের মতে, কিছু জমি দেওয়া হলেও তা শরীয়াহ অনুযায়ী প্রাপ্য অংশের তুলনায় অনেক কম। একই দাবি জানিয়েছেন সৎ বোন তানজিরা বেগমও। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে কাগজপত্রে বোন দেখিয়ে তার সম্পত্তি অন্যরা ভোগদখল করছে এবং তিনি ও তার মা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে সুলাইমান মৃধা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় তার ভাই ইউনুস মৃধা দেখাশোনা করেন। অন্যদিকে ইউনুস মৃধা বলেন, “যা কিছু হয়েছে, তা আমার বাবার জীবদ্দশাতেই হয়েছে। কেউ যদি বঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে তারা আইনের মাধ্যমে তাদের অধিকার বুঝে নিতে পারে, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।” তবে তিনি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা শরীয়াহ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও ন্যায্য বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস, ৭ ভাটার ৪ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট
মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ: ৪০ বছর ধরে বঞ্চিত বৃদ্ধা ও সন্তানদের আর্তনাদ
আকরাম হোসেন,( বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, শরীয়াহ মোতাবেক সম্পত্তি বণ্টন না হওয়ায় এক বৃদ্ধা ও তার সন্তানরা প্রায় ৪০ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পুটিখালী ইউনিয়নের ভাটখালী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার মৃধার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়েই এই বিরোধের সূত্রপাত, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার মৃধা জীবদ্দশায় তিনটি বিয়ে করেন এবং তার পরিবারে একাধিক সন্তান রয়েছে। প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে, দ্বিতীয় সংসারে এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে এবং তৃতীয় সংসারে একমাত্র কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর থেকেই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে, যখন তার দুই ছেলে সুলাইমান মৃধা ও ইউনুস মৃধা সম্পত্তির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, যদিও কিছু জমি পরবর্তীতে বোনদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে, তবে তা শরীয়াহ অনুযায়ী প্রাপ্য অংশের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে তৃতীয় স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তিনি এখন পঞ্চকরণ ইউনিয়নের একটি ছোট কুঠুরি ঘরে বসবাস করছেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে জীবনযাপন করছেন। এই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ তার জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে, যেখানে বার্ধক্যে তিনি একেবারে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধাটি দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন এবং পরিবারের কাছ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পান না। তারা আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই জটিল বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে ইউনুস মৃধার সহোদরা সালেহা বেগম, হাজেরা বেগম ও আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের মতে, কিছু জমি দেওয়া হলেও তা শরীয়াহ অনুযায়ী প্রাপ্য অংশের তুলনায় অনেক কম। একই দাবি জানিয়েছেন সৎ বোন তানজিরা বেগমও। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে কাগজপত্রে বোন দেখিয়ে তার সম্পত্তি অন্যরা ভোগদখল করছে এবং তিনি ও তার মা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে সুলাইমান মৃধা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় তার ভাই ইউনুস মৃধা দেখাশোনা করেন। অন্যদিকে ইউনুস মৃধা বলেন, “যা কিছু হয়েছে, তা আমার বাবার জীবদ্দশাতেই হয়েছে। কেউ যদি বঞ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে তারা আইনের মাধ্যমে তাদের অধিকার বুঝে নিতে পারে, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।” তবে তিনি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা শরীয়াহ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও ন্যায্য বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস, ৭ ভাটার ৪ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট