সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
দেশব্যাপী শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন। গত কয়েক মাসে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ২০ এপ্রিল থেকে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু ঝুঁকির মধ্যে ছিল, ফলে দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হাম-রুবেলা টিকা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মহামারি প্রতিরোধ সম্ভব হবে এবং শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল রাজধানীতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর এই ধরনের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতার কারণে বহু শিশু সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করতে পারেনি, যার ফলে বর্তমানে রোগের সংক্রমণ বেড়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল না এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রস্তুত ছিলেন না। তবে দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, UNICEF, WHO, Gavi এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২ কোটিরও বেশি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দেশব্যাপী এই হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে এবং দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলা ও ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু টিকা গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং অভিভাবকদের আগ্রহও বাড়ছে। আজ থেকে সারাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন চালু হওয়ায় আশা করা হচ্ছে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ভ্যাকসিনের পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে এই ধরনের বিশেষ উদ্যোগ শিশুদের সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাবে।
তিনি মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুর সুস্থতার জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত এক বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। কর্মব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে শিশুদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। পুষ্টিকর খাবার ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে শিশুদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা এই কর্মসূচির সফলতার মূল ভিত্তি। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পেইন সফল হবে এবং বাংলাদেশ আবারও স্বাস্থ্যখাতে একটি উদাহরণ তৈরি করবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তবে সময়মতো টিকা প্রদান করলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, এই ক্যাম্পেইন শুধুমাত্র একটি সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যেখানে সকলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আরোও পড়ুন – শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন: হামে আক্রান্ত শিশুদের খোঁজ নিলেন ডা. শফিকুর রহমান
শিশুদের সুরক্ষায় হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
দেশব্যাপী শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন। গত কয়েক মাসে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ২০ এপ্রিল থেকে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু ঝুঁকির মধ্যে ছিল, ফলে দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হাম-রুবেলা টিকা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মহামারি প্রতিরোধ সম্ভব হবে এবং শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল রাজধানীতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর এই ধরনের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতার কারণে বহু শিশু সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করতে পারেনি, যার ফলে বর্তমানে রোগের সংক্রমণ বেড়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল না এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রস্তুত ছিলেন না। তবে দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, UNICEF, WHO, Gavi এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২ কোটিরও বেশি ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দেশব্যাপী এই হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে এবং দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলা ও ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু টিকা গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং অভিভাবকদের আগ্রহও বাড়ছে। আজ থেকে সারাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন চালু হওয়ায় আশা করা হচ্ছে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ভ্যাকসিনের পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে এই ধরনের বিশেষ উদ্যোগ শিশুদের সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাবে।
তিনি মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুর সুস্থতার জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত এক বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। কর্মব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে শিশুদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। পুষ্টিকর খাবার ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে শিশুদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা এই কর্মসূচির সফলতার মূল ভিত্তি। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পেইন সফল হবে এবং বাংলাদেশ আবারও স্বাস্থ্যখাতে একটি উদাহরণ তৈরি করবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তবে সময়মতো টিকা প্রদান করলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, এই ক্যাম্পেইন শুধুমাত্র একটি সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যেখানে সকলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
আরোও পড়ুন – শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন: হামে আক্রান্ত শিশুদের খোঁজ নিলেন ডা. শফিকুর রহমান