
মোঃ নবীন হোসেন,মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাটঃ
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় তীব্র মোড়েলগঞ্জ লোডশেডিং পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দিন-রাত নির্বিচারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। বিশেষ করে গরমের এই মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এলাকার কর্মজীবী মানুষদের জন্য মোড়েলগঞ্জ লোডশেডিং যেন এক অসহনীয় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন পরিশ্রমের পর রাতে বিশ্রামের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় ব্যাঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মোড়েলগঞ্জ লোডশেডিং পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক সময় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, আবার হঠাৎ এসে কিছুক্ষণ পরই চলে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দোকানদাররা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে ফ্রিজ বা বিদ্যুৎনির্ভর পণ্যের ব্যবসায়ীরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলেও। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংকট থাকলেও এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। তারা মনে করছেন, পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, যা জনমনে হতাশা বাড়াচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত মোড়েলগঞ্জ লোডশেডিং সমস্যার সমাধান চান। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করে লোডশেডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়। অন্যথায় এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আরোও পড়ুন - মোরেলগঞ্জে-শরণখোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা: জনজীবনে চরম ভোগান্তি