হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ মন্ডলকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড সংলগ্ন মন্ডলপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন সিরাজ মন্ডল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি ওই বাসায় রয়েছেন। এরপর পরিকল্পিত অভিযানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার হওয়ায় দীর্ঘদিনের একটি জটিল তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে অন্তত ৯টিতে সরাসরি আসামি হিসেবে নাম রয়েছে সিরাজ মন্ডলের।
পুলিশ আরও জানায়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, তার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজ মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর অনেকগুলোই তদন্তাধীন ছিল। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় তার নাম একাধিক মামলায় উঠে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে তৎপর হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এমদাদুল হক জানান, “সিরাজ মন্ডলের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ৯টি মামলা রয়েছে। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কেউ আইনের বাইরে নয়।
এদিকে, সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তুলছেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী কাজ করছে এবং মামলার ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিশেষ করে সহিংসতা ও নাশকতার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে সিরাজ মন্ডলের গ্রেফতার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সিদ্ধিরগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর এখন সবার নজর রয়েছে।
আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!
সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার: ৯ মামলার আসামি সিরাজ মন্ডল আটক
হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ মন্ডলকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড সংলগ্ন মন্ডলপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন সিরাজ মন্ডল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি ওই বাসায় রয়েছেন। এরপর পরিকল্পিত অভিযানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার হওয়ায় দীর্ঘদিনের একটি জটিল তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে অন্তত ৯টিতে সরাসরি আসামি হিসেবে নাম রয়েছে সিরাজ মন্ডলের।
পুলিশ আরও জানায়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, তার জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজ মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর অনেকগুলোই তদন্তাধীন ছিল। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় তার নাম একাধিক মামলায় উঠে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে তৎপর হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এমদাদুল হক জানান, “সিরাজ মন্ডলের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ৯টি মামলা রয়েছে। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কেউ আইনের বাইরে নয়।
এদিকে, সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তুলছেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী কাজ করছে এবং মামলার ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিশেষ করে সহিংসতা ও নাশকতার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে সিরাজ মন্ডলের গ্রেফতার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সিদ্ধিরগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে সিরাজ মন্ডল গ্রেফতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর এখন সবার নজর রয়েছে।
আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!