মোঃ মাহফুজুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের জনদাবির পর অবশেষে শুরু হয়েছে খাল পুনঃখনন কাজ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প এবং ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহিদুর রহমান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন প্রামাণিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহুদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, হাজীপুর ইউনিয়নের অন্তরার ব্রিজ থেকে হাতিডোবা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ অন্তরার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা। এছাড়া চাপোড়-মছলন্দপুর এলাকায় আরও প্রায় আড়াই কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দিত এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট তৈরি হতো। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতো এবং অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। তবে খাল পুনঃখনন শেষ হলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, একই সঙ্গে সেচ ব্যবস্থাও সহজ হবে। এতে ধান, গম, ভুট্টা ও সবজি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালগুলো সচল হলে দেশীয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় অনেক জলজ প্রাণীর আবাস নষ্ট হচ্ছিল। এখন খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে প্রায় এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহিদুর রহমান বলেন, সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন কাজের মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।
আরোও পড়ুন – মোরেলগঞ্জে খাল পুনঃখনন: তিন খালের উদ্বোধনে সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা
পীরগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকায় ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
মোঃ মাহফুজুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের জনদাবির পর অবশেষে শুরু হয়েছে খাল পুনঃখনন কাজ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প এবং ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কাজের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহিদুর রহমান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন প্রামাণিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহুদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, হাজীপুর ইউনিয়নের অন্তরার ব্রিজ থেকে হাতিডোবা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ অন্তরার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা। এছাড়া চাপোড়-মছলন্দপুর এলাকায় আরও প্রায় আড়াই কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দিত এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট তৈরি হতো। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতো এবং অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। তবে খাল পুনঃখনন শেষ হলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, একই সঙ্গে সেচ ব্যবস্থাও সহজ হবে। এতে ধান, গম, ভুট্টা ও সবজি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালগুলো সচল হলে দেশীয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় অনেক জলজ প্রাণীর আবাস নষ্ট হচ্ছিল। এখন খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে প্রায় এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহিদুর রহমান বলেন, সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন কাজের মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।
আরোও পড়ুন – মোরেলগঞ্জে খাল পুনঃখনন: তিন খালের উদ্বোধনে সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা