লালপুরে দুঃসাহসিক চুরি: থানার সামনের জুয়েলার্স থেকে ১০ লাখ টাকার অলংকার লুট

মোঃআইয়ুব আলী,লালপুর(নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় থানার সামনেই সংঘটিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ জুয়েলার্স’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানে গভীর রাতে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে। দোকান মালিকের দাবি, দুর্বৃত্তরা প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে থানার বিপরীত পাশের দোকানে এমন চুরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে লালপুরে চুরি ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, লালপুর থানার বিপরীত পাশে অবস্থিত বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে সোমবার (৪ মে) রাত থেকে বুধবার (৬ মে) সকালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দোকানের টিনের চাল কেটে এবং নিচের লোহার রড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দোকানে থাকা স্বর্ণ ও রুপার বিভিন্ন অলংকার নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এই চুরি সংঘটিত করেছে। কারণ দোকানের ভেতরে প্রবেশের কৌশল ও সময় নির্বাচন ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং লালপুরে চুরি নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা আলোচনা শুরু হয়েছে।

দোকান মালিক মো. আব্দুল খালেক জানান, সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে যান। পরে পারিবারিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় মঙ্গলবার দোকান খোলা হয়নি। বুধবার সকালে দোকানে এসে তিনি দোকানের টিন কাটা ও ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে হিসাব করে দেখা যায়, দোকান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও রুপার অলংকার খোয়া গেছে। তিনি বলেন, জীবনের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। এদিকে লালপুরে চুরি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুর বাজার এলাকায় সম্প্রতি ছোট-বড় কয়েকটি চুরি ও চুরির চেষ্টা ঘটলেও এবার থানার সামনের দোকানে এমন বড় চুরি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাতের বেলায় এলাকায় টহল ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। বিশেষ করে স্বর্ণের দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, লালপুরে চুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সম্ভাব্য সূত্র যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে চোরচক্র শনাক্তে প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই লালপুরে চুরি ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরোও পড়ুন – চুরি করতে গিয়ে ঘোড়াঘাটে দাদী হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩

লালপুরে দুঃসাহসিক চুরি: থানার সামনের জুয়েলার্স থেকে ১০ লাখ টাকার অলংকার লুট

মে ৭, ২০২৬

মোঃআইয়ুব আলী,লালপুর(নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় থানার সামনেই সংঘটিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ জুয়েলার্স’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানে গভীর রাতে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে। দোকান মালিকের দাবি, দুর্বৃত্তরা প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে থানার বিপরীত পাশের দোকানে এমন চুরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে লালপুরে চুরি ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, লালপুর থানার বিপরীত পাশে অবস্থিত বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে সোমবার (৪ মে) রাত থেকে বুধবার (৬ মে) সকালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দোকানের টিনের চাল কেটে এবং নিচের লোহার রড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দোকানে থাকা স্বর্ণ ও রুপার বিভিন্ন অলংকার নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এই চুরি সংঘটিত করেছে। কারণ দোকানের ভেতরে প্রবেশের কৌশল ও সময় নির্বাচন ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং লালপুরে চুরি নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা আলোচনা শুরু হয়েছে।

দোকান মালিক মো. আব্দুল খালেক জানান, সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে যান। পরে পারিবারিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় মঙ্গলবার দোকান খোলা হয়নি। বুধবার সকালে দোকানে এসে তিনি দোকানের টিন কাটা ও ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে হিসাব করে দেখা যায়, দোকান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও রুপার অলংকার খোয়া গেছে। তিনি বলেন, জীবনের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার মূলধন এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। এদিকে লালপুরে চুরি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালপুর বাজার এলাকায় সম্প্রতি ছোট-বড় কয়েকটি চুরি ও চুরির চেষ্টা ঘটলেও এবার থানার সামনের দোকানে এমন বড় চুরি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাতের বেলায় এলাকায় টহল ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। বিশেষ করে স্বর্ণের দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, লালপুরে চুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সম্ভাব্য সূত্র যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে চোরচক্র শনাক্তে প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই লালপুরে চুরি ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরোও পড়ুন – চুরি করতে গিয়ে ঘোড়াঘাটে দাদী হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩