মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় মহানগরীতে পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা অর্জনের দাবি করেছে রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগ। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় এনে এই কার্যক্রমে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা এবং অভিভাবকদের ইতিবাচক অংশগ্রহণের কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচালিত কার্যক্রমে শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমের আওতায় মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৮৮৬ জন শিশুকে। তবে প্রথম ধাপেই টিকা পেয়েছে ৫৭ হাজার ৩৭০ জন শিশু, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত নগরীর ৪৩৮টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষকরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এতে নগরবাসীর মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিকাদান কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ২০ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব শিশু এখনো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি র্যাপিড কনভিনিয়েন্স মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা অনলাইনে আপলোড করা হচ্ছে। এতে পুরো কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইপিআই কর্মসূচির সদস্য, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও রুবেলা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা প্রদান না করলে এসব রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করছে সরকার। রাজশাহীতে সফল বাস্তবায়ন দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
রাসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা এখনও টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, নগরীর প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট টিমগুলো।
আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কভারেজ ১০০.৪৪% অতিক্রম, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো ক্যাম্পেইন ২০২৬
রাজশাহীতে হাম-রুবেলা টিকাদানে শতভাগ সফলতা, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল রাসিক
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় মহানগরীতে পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা অর্জনের দাবি করেছে রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগ। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় এনে এই কার্যক্রমে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা এবং অভিভাবকদের ইতিবাচক অংশগ্রহণের কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচালিত কার্যক্রমে শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রাসিক স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমের আওতায় মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৮৮৬ জন শিশুকে। তবে প্রথম ধাপেই টিকা পেয়েছে ৫৭ হাজার ৩৭০ জন শিশু, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত নগরীর ৪৩৮টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষকরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এতে নগরবাসীর মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিকাদান কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ২০ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মপ-আপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব শিশু এখনো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি র্যাপিড কনভিনিয়েন্স মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা অনলাইনে আপলোড করা হচ্ছে। এতে পুরো কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইপিআই কর্মসূচির সদস্য, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও রুবেলা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা প্রদান না করলে এসব রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করছে সরকার। রাজশাহীতে সফল বাস্তবায়ন দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।
রাসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা এখনও টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, নগরীর প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট টিমগুলো।
আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কভারেজ ১০০.৪৪% অতিক্রম, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো ক্যাম্পেইন ২০২৬