
আকরাম হোসেন, (বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর পুটিখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গজালিয়া গ্রামে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৩ মে গভীর রাতে সরকারি সেচ ব্লকের তিনটি ট্রান্সফরমার ভেঙে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা ভাঙা ট্রান্সফরমারের খোলস দেখে সকালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ট্রান্সফরমার চুরি ঘটনায় এলাকার কৃষকরা সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গজালিয়া বড় মাঠের সরকারি সেচ ব্লকের মাধ্যমে কয়েকশ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ করা হতো। চলতি মৌসুমে ধান ও বিভিন্ন সবজির আবাদে এই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন অসংখ্য কৃষক। কিন্তু হঠাৎ করে সংঘটিত ট্রান্সফরমার চুরি ঘটনায় পুরো এলাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করা হলে মাঠের ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বোরো ধান ও গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ঘটনার পরপরই গ্রাম পুলিশ প্রধান নাসির তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গজালিয়া গ্রামে চুরি, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে চললেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভও জমছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই ট্রান্সফরমার চুরি কোনো সাধারণ চোরের কাজ নয়। কারণ বিদ্যুৎ লাইনের ট্রান্সফরমার খুলে ভেতরের যন্ত্রাংশ নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কারিগরি দক্ষতার বিষয়। তাদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ ও অভিজ্ঞ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রশাসনের প্রতি রাতের টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে আনা এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও গজালিয়া গ্রামে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দরিদ্র ভ্যানচালক এনসান শেখের ঘর থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। অনেক সময় পার হলেও এখনো তিনি তার চুরি যাওয়া সম্পদের কোনো সন্ধান কিংবা বিচার পাননি। একইভাবে ব্যবসায়ী গাউসুল হকের বাড়িতে পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঢুকে আসবাবপত্র ও মোটর চুরি করে নিয়ে যায়। এসব ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে এবি গজালিয়া বাজারেও এক রাতে একযোগে তিন থেকে চারটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাতের বেলায় এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক ট্রান্সফরমার চুরি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পুরো ইউনিয়নে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, চোরচক্রের সদস্যরা আগে থেকেই এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পিতভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত করছে।
স্থানীয় জনগণ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ও সেচ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে গ্রামে স্বস্তি ফিরবে এবং অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে।
আরোও পড়ুন - বাগেরহাটে গুলিতে যুবক নিহত | চিতলমারীতে চাঞ্চল্য