বড়লেখায় চায়না-৩ লিচু বিক্রিতে ব্যস্ত কৃষকরা, জমজমাট মৌসুমি বাজার

শাহরিয়ার শাকিল বড়লেখা প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামে এখন জমে উঠেছে মৌসুমি ফলের বাজার। বিশেষ করে চায়না-৩ লিচু বিক্রি ও সংগ্রহকে ঘিরে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক ব্যস্ততা। সুস্বাদু, রসালো ও বড় আকারের এই লিচুর চাহিদা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগানে চলছে লিচু আহরণ, বাছাই, প্যাকেটজাতকরণ ও পাইকারি বিক্রির কাজ। স্থানীয়দের মতে, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর লিচুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাগানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গাছভর্তি পাকা লালচে রঙের চায়না-৩ লিচু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে লিচু নামাচ্ছেন, কেউ আবার ঝুড়িতে ভরে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করছেন। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি বাগানে এসে কৃষকদের কাছ থেকে লিচু কিনে নিচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কৃষকদের মুখেও দেখা গেছে সন্তুষ্টির হাসি।

স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী মায়রুফ আহমদ জানান, এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় বাজারেও সরবরাহ বেড়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার চায়না-৩ লিচু স্বাদে ও গুণে অনেক ভালো। এখান থেকে লিচু কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরাও ভালো লাভ করতে পারছেন। বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে এই লিচুর চাহিদা অনেক বেশি।” তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকেই লিচু সংগ্রহ করছেন।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, “চায়না-৩ বা বারি লিচু-৩ এখন বাজারে খুব জনপ্রিয় একটি জাত। বড় আকার, মিষ্টি স্বাদ ও দীর্ঘ সময় সতেজ থাকার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করছেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমজুড়ে ভালো ব্যবসা হবে এবং কৃষকেরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চায়না-৩ লিচু বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় উন্নত জাতের লিচু। এটি বারি উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যা স্বাদ, গুণগত মান ও আকর্ষণীয় রঙের কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই লিচুতে রয়েছে ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া গরমের সময় শরীরকে সতেজ রাখতেও লিচুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বড়লেখার মাটি ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে প্রতিবছর এখানে লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদনগর এলাকার অনেক পরিবার এখন বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা ও সহজ ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে এই অঞ্চলে লিচু চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

লিচু মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের একটি চিরসবুজ গাছের ফল। এর বাইরের আবরণ অমসৃণ ও লালচে-গোলাপি বর্ণের হলেও ভেতরের অংশ সাদা, নরম ও রসালো শাঁসে পরিপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে লিচুর আদি নিবাস ধরা হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। মৌসুমি ফল হিসেবে লিচুর জনপ্রিয়তা প্রতিবছরই বাড়ছে এবং বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে ইউএনও’র সাথে নিসচার মতবিনিময়

বড়লেখায় চায়না-৩ লিচু বিক্রিতে ব্যস্ত কৃষকরা, জমজমাট মৌসুমি বাজার

মে ১৯, ২০২৬

শাহরিয়ার শাকিল বড়লেখা প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামে এখন জমে উঠেছে মৌসুমি ফলের বাজার। বিশেষ করে চায়না-৩ লিচু বিক্রি ও সংগ্রহকে ঘিরে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক ব্যস্ততা। সুস্বাদু, রসালো ও বড় আকারের এই লিচুর চাহিদা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগানে চলছে লিচু আহরণ, বাছাই, প্যাকেটজাতকরণ ও পাইকারি বিক্রির কাজ। স্থানীয়দের মতে, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর লিচুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাগানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গাছভর্তি পাকা লালচে রঙের চায়না-৩ লিচু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। কেউ গাছ থেকে লিচু নামাচ্ছেন, কেউ আবার ঝুড়িতে ভরে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করছেন। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি বাগানে এসে কৃষকদের কাছ থেকে লিচু কিনে নিচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কৃষকদের মুখেও দেখা গেছে সন্তুষ্টির হাসি।

স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী মায়রুফ আহমদ জানান, এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় বাজারেও সরবরাহ বেড়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার চায়না-৩ লিচু স্বাদে ও গুণে অনেক ভালো। এখান থেকে লিচু কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরাও ভালো লাভ করতে পারছেন। বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে এই লিচুর চাহিদা অনেক বেশি।” তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকেই লিচু সংগ্রহ করছেন।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, “চায়না-৩ বা বারি লিচু-৩ এখন বাজারে খুব জনপ্রিয় একটি জাত। বড় আকার, মিষ্টি স্বাদ ও দীর্ঘ সময় সতেজ থাকার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করছেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমজুড়ে ভালো ব্যবসা হবে এবং কৃষকেরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চায়না-৩ লিচু বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় উন্নত জাতের লিচু। এটি বারি উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যা স্বাদ, গুণগত মান ও আকর্ষণীয় রঙের কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই লিচুতে রয়েছে ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া গরমের সময় শরীরকে সতেজ রাখতেও লিচুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বড়লেখার মাটি ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলে প্রতিবছর এখানে লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদনগর এলাকার অনেক পরিবার এখন বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা ও সহজ ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে এই অঞ্চলে লিচু চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

লিচু মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের একটি চিরসবুজ গাছের ফল। এর বাইরের আবরণ অমসৃণ ও লালচে-গোলাপি বর্ণের হলেও ভেতরের অংশ সাদা, নরম ও রসালো শাঁসে পরিপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে লিচুর আদি নিবাস ধরা হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। মৌসুমি ফল হিসেবে লিচুর জনপ্রিয়তা প্রতিবছরই বাড়ছে এবং বাজারে এর চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে ইউএনও’র সাথে নিসচার মতবিনিময়