মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, রংপুরঃ
দিনাজপুরে শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসকে ঘিরে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাতের এ ঘটনায় সংঘর্ষ, ধাক্কাধাক্কি ও হামলার অভিযোগে অন্তত ৯ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এদিকে তিস্তা টোল হামলা নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিক্ষাসফর শেষে কুবির একটি বাস তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এ সময় টোল পরিশোধকে কেন্দ্র করে বাসচালক ও দায়িত্বরত টোল কর্মচারীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে এক শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এতে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এলাকায় তিস্তা টোল হামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বাসে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছেন সহপাঠীরা। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করা হয় এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়। অনেকেই বলছেন, তিস্তা টোল হামলা দেশের শিক্ষা পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় শিক্ষার্থীরা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। তারা জানান, শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কারও জন্যই কাম্য নয়। অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্বশীল আচরণ করলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ পর্যায়ে যেত না। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ও ছবি ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে তিস্তা টোল হামলা এখন জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে লালমনিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ বলেন, টোল প্লাজায় সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত কাজ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হামলার অভিযোগে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন
তিস্তা টোল প্লাজায় হামলা: কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত ৯
মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, রংপুরঃ
দিনাজপুরে শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাসকে ঘিরে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাতের এ ঘটনায় সংঘর্ষ, ধাক্কাধাক্কি ও হামলার অভিযোগে অন্তত ৯ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এদিকে তিস্তা টোল হামলা নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিক্ষাসফর শেষে কুবির একটি বাস তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এ সময় টোল পরিশোধকে কেন্দ্র করে বাসচালক ও দায়িত্বরত টোল কর্মচারীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে এক শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এতে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এলাকায় তিস্তা টোল হামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বাসে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছেন সহপাঠীরা। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করা হয় এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়। অনেকেই বলছেন, তিস্তা টোল হামলা দেশের শিক্ষা পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় শিক্ষার্থীরা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। তারা জানান, শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কারও জন্যই কাম্য নয়। অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্বশীল আচরণ করলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ পর্যায়ে যেত না। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ও ছবি ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে তিস্তা টোল হামলা এখন জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে লালমনিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ বলেন, টোল প্লাজায় সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত কাজ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হামলার অভিযোগে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ধরলা ভাঙন আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন