শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকার দোহার পৌরসভা’র প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন খাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দীন চৌধুরী। শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) দুপুরে দোহার পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও দাপ্তরিক মতবিনিময় সভায় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নাগরিক সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি কিংবা কর আদায়ে অবহেলা ভবিষ্যতে সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পৌর প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একটি পৌরসভা তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যখন তার রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, দোহার পৌরসভা’র বিভিন্ন আয়ের খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। বিশেষ করে বাণিজ্যিক দোকানপাট, আবাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স, মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার কর এবং বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড থেকে রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি প্রশাসনের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ মাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, সাধারণ নাগরিকদের সেবা দিতে গিয়ে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি জানান, কর আদায়ে অনিয়ম, ফাঁকি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে নাগরিকদের মধ্যে কর প্রদানে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।
সভায় উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ না করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া মোবাইল ফোন টাওয়ার স্থাপনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও নিয়মিত কর আদায়ে শিথিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে শরফ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “সরকারি রাজস্বের প্রতিটি খাত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে রাজস্ব আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।” তিনি দোহার পৌরসভা’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পৌর এলাকার সেবা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও রাজস্ব কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে তথ্যভিত্তিক মনিটরিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ও আলোচনায় আসে। বিভাগীয় কমিশনার এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া দোহার পৌরসভা’র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সভায় অংশ নেন। সভা শেষে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং রাজস্ব আদায়ে নতুন তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধরনের কঠোর প্রশাসনিক বার্তা পৌরসভার সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কর আদায়ে শৃঙ্খলা ফিরে এলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
আরোও পড়ুন – ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দোহারে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি
দোহার পৌরসভায় কঠোর বার্তা: কোনো অবহেলা বরদাশত নয় – শরফ উদ্দীন
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকার দোহার পৌরসভা’র প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন খাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দীন চৌধুরী। শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) দুপুরে দোহার পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও দাপ্তরিক মতবিনিময় সভায় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নাগরিক সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি কিংবা কর আদায়ে অবহেলা ভবিষ্যতে সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পৌর প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একটি পৌরসভা তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যখন তার রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, দোহার পৌরসভা’র বিভিন্ন আয়ের খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। বিশেষ করে বাণিজ্যিক দোকানপাট, আবাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স, মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার কর এবং বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড থেকে রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি প্রশাসনের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোঃ মাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, সাধারণ নাগরিকদের সেবা দিতে গিয়ে যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি জানান, কর আদায়ে অনিয়ম, ফাঁকি কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে নাগরিকদের মধ্যে কর প্রদানে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।
সভায় উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ না করলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া মোবাইল ফোন টাওয়ার স্থাপনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও নিয়মিত কর আদায়ে শিথিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে শরফ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “সরকারি রাজস্বের প্রতিটি খাত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে রাজস্ব আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।” তিনি দোহার পৌরসভা’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পৌর এলাকার সেবা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও রাজস্ব কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে তথ্যভিত্তিক মনিটরিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ও আলোচনায় আসে। বিভাগীয় কমিশনার এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া দোহার পৌরসভা’র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সভায় অংশ নেন। সভা শেষে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং রাজস্ব আদায়ে নতুন তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধরনের কঠোর প্রশাসনিক বার্তা পৌরসভার সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কর আদায়ে শৃঙ্খলা ফিরে এলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
আরোও পড়ুন – ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দোহারে মানববন্ধন, খুনিদের ফাঁসির দাবি