লালপুরে ভ্যান ডাকাতি: গণপিটুনির পর ৩ ডাকাত গ্রেফতার

মোঃআইয়ুব আলী, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় গভীর রাতে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত ও কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র চলন্ত অটোভ্যান থামিয়ে চালক ও যাত্রীকে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। পরে স্থানীয় জনতার তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তিন ডাকাত আটক হলেও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত ডাকাতদের চিকিৎসা শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, আর এই ঘটনার পর সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৫ মে) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ভ্যানচালক মোঃ সিদ্দিক মালিথা এবং যাত্রী মোঃ আবু তাহের অটোভ্যানযোগে সাতপুকুরিয়া গ্রাম থেকে বনপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লালপুর থানাধীন ১০নং কদিমচিলান ইউনিয়নের পুকুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ডাকাতরা শক্তিশালী টর্চলাইটের আলো ভিকটিমদের চোখে ফেলে বিভ্রান্ত করে এবং ধারালো হাসুয়া গলায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের হাত, চোখ ও মুখ বেঁধে পাশের একটি খেজুর বাগানে ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় “লালপুরে ডাকাতি” নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এরপর ডাকাতচক্র ভিকটিমদের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অটোভ্যান এবং প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি OPPO A-18 স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে কিছুক্ষণ পর ভিকটিমদের চিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে এলাকাবাসী কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামের পথে ধাওয়া চালায়। স্থানীয়দের সাহসী ভূমিকায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের আতাউর মন্ডল (৪২), আশরাফুল গ্রামের শ্রী সুনীল কুমার (৫৫) এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামের সেন্টু আলীকে (৫৫) আটক করা হয়। স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই “লালপুরে ডাকাতি” ঘটনায় তাৎক্ষণিক অগ্রগতি আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আটকের পর উত্তেজিত জনতা তিন ডাকাতকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত সেন্টু আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে আতাউর মন্ডল ও সুনীল কুমারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি বড় ধারালো ছুরি, একটি টিপ চাকু, গামছা ও কয়েকটি দড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

লালপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলা নং-৩৯, তারিখ ২৫/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্র দাবি করেছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া অপর সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, “লালপুরে ডাকাতি” ঘটনার পর রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এদিকে ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে রাতের বেলা দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মহাসড়ক ও গ্রামীণ সংযোগ সড়কে পুলিশের টহল আরও বাড়ানো হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, “লালপুরে ডাকাতি” ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – লালপুরে বিদেশি পিস্তলসহ ৪ জন গ্রেফতার অস্ত্র উদ্ধার অভিযান

লালপুরে ভ্যান ডাকাতি: গণপিটুনির পর ৩ ডাকাত গ্রেফতার

মে ২৫, ২০২৬

মোঃআইয়ুব আলী, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় গভীর রাতে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত ও কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র চলন্ত অটোভ্যান থামিয়ে চালক ও যাত্রীকে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। পরে স্থানীয় জনতার তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তিন ডাকাত আটক হলেও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত ডাকাতদের চিকিৎসা শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, আর এই ঘটনার পর সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৫ মে) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ভ্যানচালক মোঃ সিদ্দিক মালিথা এবং যাত্রী মোঃ আবু তাহের অটোভ্যানযোগে সাতপুকুরিয়া গ্রাম থেকে বনপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লালপুর থানাধীন ১০নং কদিমচিলান ইউনিয়নের পুকুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ডাকাতরা শক্তিশালী টর্চলাইটের আলো ভিকটিমদের চোখে ফেলে বিভ্রান্ত করে এবং ধারালো হাসুয়া গলায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখায়। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের হাত, চোখ ও মুখ বেঁধে পাশের একটি খেজুর বাগানে ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় “লালপুরে ডাকাতি” নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এরপর ডাকাতচক্র ভিকটিমদের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অটোভ্যান এবং প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি OPPO A-18 স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে কিছুক্ষণ পর ভিকটিমদের চিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে এলাকাবাসী কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামের পথে ধাওয়া চালায়। স্থানীয়দের সাহসী ভূমিকায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের আতাউর মন্ডল (৪২), আশরাফুল গ্রামের শ্রী সুনীল কুমার (৫৫) এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামের সেন্টু আলীকে (৫৫) আটক করা হয়। স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই “লালপুরে ডাকাতি” ঘটনায় তাৎক্ষণিক অগ্রগতি আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আটকের পর উত্তেজিত জনতা তিন ডাকাতকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত সেন্টু আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে আতাউর মন্ডল ও সুনীল কুমারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি বড় ধারালো ছুরি, একটি টিপ চাকু, গামছা ও কয়েকটি দড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

লালপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলা নং-৩৯, তারিখ ২৫/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, পেনাল কোডের ৩৯২ ধারায় ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্র দাবি করেছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়া অপর সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, “লালপুরে ডাকাতি” ঘটনার পর রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এদিকে ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে রাতের বেলা দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মহাসড়ক ও গ্রামীণ সংযোগ সড়কে পুলিশের টহল আরও বাড়ানো হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, “লালপুরে ডাকাতি” ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – লালপুরে বিদেশি পিস্তলসহ ৪ জন গ্রেফতার অস্ত্র উদ্ধার অভিযান