আটোয়ারীতে অচল সোলার লাইটে দুর্ভোগ, উধাও প্যানেল-ব্যাটারি

মো মানিক হোসেন নিরব ​আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা সৌরচালিত স্ট্রিট লাইটগুলো এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে স্থাপিত অধিকাংশ লাইট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রাত নামলেই নেমে আসে গভীর অন্ধকার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, নারী, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু স্থানে “অচল সোলার লাইট” এখন শুধুই নামমাত্র প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়। প্রথমদিকে এসব লাইট সচল থাকলেও ধীরে ধীরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ বাতি নিভে যায়। কোথাও ব্যাটারি নষ্ট হয়েছে, কোথাও সোলার প্যানেল অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আবার কিছু এলাকায় পুরো লাইটই উধাও হয়ে গেছে। এতে করে “অচল সোলার লাইট” নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে দিন দিন।

উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খোয়া, বলরামপুর ও তোড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় শুধু লোহার খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটির ওপরে থাকার কথা সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও এলইডি লাইটের, কিন্তু বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরচক্র এসব যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “রাতে এই রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। আগে সোলার লাইট থাকায় অন্তত কিছুটা নিরাপত্তা ছিল। এখন অন্ধকারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে।” একই ধরনের অভিযোগ করেন কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর কোচিং শেষে বাড়ি ফিরতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে “অচল সোলার লাইট” থাকার কারণে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরাও এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাতে বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকারে চোর-ছ্যাঁচোড় ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ী দোকান আগেভাগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা এসব সোলার লাইট রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি সরকারি সম্পদের অপচয়ের শামিল।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু নতুন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর কার্যকর তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই বলছেন, সোলার লাইট স্থাপনের সময় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব লাইট। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনাও বাড়ছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ অবিলম্বে “অচল সোলার লাইট” মেরামত, চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধার এবং নতুন করে কার্যকর আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, গ্রামীণ জনপদে নিরাপদ চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আরোও পড়ুন – রাধানগরে খড় শুকানোয় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ব্যাহত যান চলাচল

আটোয়ারীতে অচল সোলার লাইটে দুর্ভোগ, উধাও প্যানেল-ব্যাটারি

মে ৩০, ২০২৬

মো মানিক হোসেন নিরব ​আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা সৌরচালিত স্ট্রিট লাইটগুলো এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে স্থাপিত অধিকাংশ লাইট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রাত নামলেই নেমে আসে গভীর অন্ধকার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, নারী, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু স্থানে “অচল সোলার লাইট” এখন শুধুই নামমাত্র প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়। প্রথমদিকে এসব লাইট সচল থাকলেও ধীরে ধীরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ বাতি নিভে যায়। কোথাও ব্যাটারি নষ্ট হয়েছে, কোথাও সোলার প্যানেল অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আবার কিছু এলাকায় পুরো লাইটই উধাও হয়ে গেছে। এতে করে “অচল সোলার লাইট” নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে দিন দিন।

উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খোয়া, বলরামপুর ও তোড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় শুধু লোহার খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটির ওপরে থাকার কথা সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও এলইডি লাইটের, কিন্তু বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ চোরচক্র এসব যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “রাতে এই রাস্তাগুলো দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। আগে সোলার লাইট থাকায় অন্তত কিছুটা নিরাপত্তা ছিল। এখন অন্ধকারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে।” একই ধরনের অভিযোগ করেন কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার। তিনি জানান, সন্ধ্যার পর কোচিং শেষে বাড়ি ফিরতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে “অচল সোলার লাইট” থাকার কারণে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরাও এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাতে বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকারে চোর-ছ্যাঁচোড় ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ী দোকান আগেভাগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা এসব সোলার লাইট রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি সরকারি সম্পদের অপচয়ের শামিল।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু নতুন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর কার্যকর তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই বলছেন, সোলার লাইট স্থাপনের সময় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব লাইট। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনাও বাড়ছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ অবিলম্বে “অচল সোলার লাইট” মেরামত, চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধার এবং নতুন করে কার্যকর আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, গ্রামীণ জনপদে নিরাপদ চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আরোও পড়ুন – রাধানগরে খড় শুকানোয় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ব্যাহত যান চলাচল