মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় প্রধান, রংপুরঃ
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা ও পূর্ব ফুলমতি এলাকায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের খবর দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের অভিযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ অভিযানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কুরুষাফেরুষা ও পূর্ব ফুলমতি এলাকার কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন বাড়ি, নির্জন স্থান ও সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয়দের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে অভিযান প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে। তাই নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখার মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা যেতে পারে। তারা মনে করেন, সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় তরুণদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। ফলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকায় চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে তারা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হবে।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আটক, গ্রেপ্তার বা মাদকদ্রব্য জব্দের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদক নির্মূলে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তারা আরও জানান, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই সফল করা সম্ভব নয়।
কর্মকর্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে দুই বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ঢল
মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় প্রধান, রংপুরঃ
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা ও পূর্ব ফুলমতি এলাকায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের খবর দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবনের অভিযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ অভিযানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, কুরুষাফেরুষা ও পূর্ব ফুলমতি এলাকার কয়েকটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন বাড়ি, নির্জন স্থান ও সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয়দের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে অভিযান প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকের বিস্তার শুধু ব্যক্তিগত জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; এটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে। তাই নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখার মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা যেতে পারে। তারা মনে করেন, সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় তরুণদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছে। ফলে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এলাকায় চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে তারা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হবে।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আটক, গ্রেপ্তার বা মাদকদ্রব্য জব্দের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদক নির্মূলে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তারা আরও জানান, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই সফল করা সম্ভব নয়।
কর্মকর্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে দুই বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী