
মুহাম্মদ এমরান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখাইল্লাঝীরি পাড়ায় সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় বিধবা নারী নির্যাতন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ভুক্তভোগী তিন সন্তানের জননী এবং গত রমজানে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারানোর পর থেকে সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি বিলে তরকারি কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন ওই নারী। এ সময় একই এলাকার মজু মাঝির ছেলে মো. নাছির হঠাৎ পিছন থেকে এসে তাকে জাপটে ধরে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। বাধা দিলে অভিযুক্ত একটি ধারালো ছুরি প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাণভয়ে ওই নারী ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তাকে ধাওয়া করে। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণেরও চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর মতে, বিধবা নারী নির্যাতন ও নারী হয়রানির অভিযোগে এর আগেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল, যদিও সেসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমি একজন অসহায় বিধবা নারী। আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্নভাবে আমাকে বিরক্ত করা হতো। কয়েকবার বাড়িতে ঢোকারও চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাড়িতে লোকজন থাকায় কিছু করতে পারেনি। এবার সরাসরি আমার ওপর হামলা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন আমি এবং আমার সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং কঠোর বিচার চাই।” তার এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিধবা নারী নির্যাতন রোধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আপ্রুসিং মার্মা বলেন, “নাছিরের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছি। কয়েকবার স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও বিচার হয়েছে। একজন অসহায় নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, এই ধরনের ঘটনা এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে ভুক্তভোগীকে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, বিধবা নারী নির্যাতন এবং শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বামীহারা ও অসহায় নারীদের প্রতি অপরাধমূলক আচরণ সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরোও পড়ুন - লামা-আলীকদমে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন দাবি, কমবে ভোগান্তি