লামা-আলীকদমে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন দাবি, কমবে ভোগান্তি

মুহাম্মদ এমরান,লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সেবার নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং মৌসুমি দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসী এখন ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জোরালোভাবে তুলছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গাছের ডাল কাটার অজুহাতে অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যমান ওপেন লাইনের কারণে ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি সেবার মানও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন হবে।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থানীয় বাজারে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিজিং, ইন্টারনেট নির্ভর কাজ এবং ছোট শিল্পখাতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না, আর হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তারা দ্রুত ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তার ওপর মাসে কয়েকদিন গাছের ডাল কাটার কারণে বিদ্যুৎ থাকে না। যদি মাটির নিচ দিয়ে লাইন করা হয়, তাহলে আমরা অন্তত স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান পেতাম।” তিনি আরও জানান, উন্নত দেশের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করলে লামা-আলীকদম এলাকাও আধুনিক সুবিধার আওতায় আসবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হলে একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরোও পড়ুন – লামার ফাঁসিয়াখালীতে লাগাতার বন্য হাতির তান্ডবে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি

লামা-আলীকদমে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন দাবি, কমবে ভোগান্তি

মে ৬, ২০২৬

মুহাম্মদ এমরান,লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সেবার নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং মৌসুমি দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এই প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসী এখন ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জোরালোভাবে তুলছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গাছের ডাল কাটার অজুহাতে অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যমান ওপেন লাইনের কারণে ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি সেবার মানও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন হবে।

ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থানীয় বাজারে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিজিং, ইন্টারনেট নির্ভর কাজ এবং ছোট শিল্পখাতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না, আর হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তারা দ্রুত ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তার ওপর মাসে কয়েকদিন গাছের ডাল কাটার কারণে বিদ্যুৎ থাকে না। যদি মাটির নিচ দিয়ে লাইন করা হয়, তাহলে আমরা অন্তত স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান পেতাম।” তিনি আরও জানান, উন্নত দেশের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করলে লামা-আলীকদম এলাকাও আধুনিক সুবিধার আওতায় আসবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হলে একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরোও পড়ুন – লামার ফাঁসিয়াখালীতে লাগাতার বন্য হাতির তান্ডবে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি