
মো মানিক হোসেন নিরব আটোয়ারী, (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের চলমান উদ্যোগকে আরও গতিশীল করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আটোয়ারী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় গাছের বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।”
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত বনায়ন এবং বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। এ কারণে সরকারের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সড়কের পাশে ব্যাপক হারে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর এবং আশপাশের বিভিন্ন নির্ধারিত স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। আম, কাঁঠাল, লিচু, নিম, অর্জুন, মেহগনি ও বিভিন্ন ঔষধি প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, শুধু গাছ লাগানোই নয়, রোপিত চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত মহাপরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, খাস জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে ব্যাপক হারে গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উপজেলায় সবুজায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মসূচির সমাপনী পর্বে উপস্থিত কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং খালি জায়গায় অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ অথবা ঔষধি গাছ লাগাতে। তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষার এই মহৎ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিককে পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন - আটোয়ারীতে অচল সোলার লাইটে দুর্ভোগ, উধাও প্যানেল-ব্যাটারি