
নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধাউরার কুটি নতুন স্লুইস গেট এলাকায় ধাউরার কুটিতে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীর তীর ভেঙে একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং ভাঙন দ্রুত লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শতাধিক পরিবার আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই রাত জেগে নদীর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ যে কোনো সময় তাদের বসতঘর ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও নদী তাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে ছিল। কিন্তু পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বর্তমানে অনেক পরিবারের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং কয়েকটি বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ধাউরার কুটিতে নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষকের বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। গবাদিপশু, গাছপালা এবং পারিবারিক সম্পদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেক পরিবার। শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল ছিল। স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দকৃত কাজের যথাযথ তদারকি ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীর স্রোত সহজেই সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এলাকাবাসীর মতে, সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর সমাধান।
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, শুষ্ক মৌসুমে যদি টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হতো, তাহলে আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। প্রতিবছর বর্ষাকালে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তা নদীর প্রবল স্রোতের সামনে টিকতে পারে না। ধাউরার কুটিতে নদীভাঙন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো এলাকার বসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে একাধিক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি এখন নদীর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। কোথায় যাব, কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব—তা বুঝতে পারছি না। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নদী কেড়ে নিচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করুন।” তাদের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জিও ব্যাগ ফেলে দায়সারা ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতেও একই সংকট চলতে থাকবে। নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক নদীশাসন এবং কার্যকর বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তারা মনে করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষিজমিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ধাউরার কুটিতে নদীভাঙন এখন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরোও পড়ুন - কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ঢল