
সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
সমাজ থেকে যৌতুকের মতো দীর্ঘদিনের সামাজিক ব্যাধি দূর করার প্রত্যয়ে লালমনিরহাটে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমধর্মী যৌতুকমুক্ত বিবাহ উৎসব। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন 'আলোকিত লালমনিরহাট'-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ গণবিয়ের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন এবং বিবাহ সম্পন্ন হবে। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কয়েকটি পরিবারের নতুন জীবন শুরু নয়, বরং পুরো সমাজকে যৌতুকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নবদম্পতিদের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানাবেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এই যৌতুকমুক্ত বিবাহ অনুষ্ঠান ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিবারকে যৌতুক ছাড়াই বিয়ে সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করবে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।
আলোকিত লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌতুকের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক নারী বিয়ের পর নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীন পরিবেশে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করলেই যৌতুকের কুপ্রথা নির্মূল করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই যৌতুকমুক্ত বিবাহ আয়োজনকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, লালমনিরহাটে এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যৌতুকবিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে এমন আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সমাজে বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি বৈষম্য এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতেও এই উদ্যোগ সহায়ক হবে। সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজনের পথ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, মাননীয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এর আগেও লালমনিরহাটকে যৌতুক ও বাল্যবিবাহমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি যৌতুক ছাড়া বিয়ে করা দম্পতিদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। আয়োজকরা বিশ্বাস করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে যৌতুকবিহীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। তাই আজকের যৌতুকমুক্ত বিবাহ অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং একটি মানবিক, সচেতনতামূলক এবং সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলাতেও অনুসরণযোগ্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠবে এবং যৌতুকমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।
আরোও পড়ুন - লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ