লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি তোজা মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি কিংবা বৈধ ইজারা ছাড়াই শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবেরকুটি এলাকার খাস জমির বিস্তীর্ণ অংশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেই বালু ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও চলছে এই বালু ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, তোজা মিয়ার নিয়ন্ত্রিত এই চক্রের কারণে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকার কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমিতে ভাঙন ও মাটিধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অনেক স্থানে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভারী ট্রলি ও ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কয়েকজনের অবৈধ লাভের কারণে পুরো এলাকার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তোজা মিয়া স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ লুটপাট করে একটি প্রভাবশালী মহল কোটি টাকার বাণিজ্য গড়ে তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদীভাঙন, মাটির স্তর ধসে যাওয়া এবং বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকারি খাস জমি থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বালুখেকো চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে খাস জমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – লামায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে একজনকে ১৫ দিনের জেল

লালমনিরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলন: খাস জমি দখলে তোজা মিয়ার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ

মে ১১, ২০২৬

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি তোজা মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি কিংবা বৈধ ইজারা ছাড়াই শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবেরকুটি এলাকার খাস জমির বিস্তীর্ণ অংশে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেই বালু ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও চলছে এই বালু ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, তোজা মিয়ার নিয়ন্ত্রিত এই চক্রের কারণে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকার কৃষকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমিতে ভাঙন ও মাটিধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অনেক স্থানে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভারী ট্রলি ও ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কয়েকজনের অবৈধ লাভের কারণে পুরো এলাকার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তোজা মিয়া স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ লুটপাট করে একটি প্রভাবশালী মহল কোটি টাকার বাণিজ্য গড়ে তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদীভাঙন, মাটির স্তর ধসে যাওয়া এবং বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকারি খাস জমি থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বালুখেকো চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে খাস জমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – লামায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে একজনকে ১৫ দিনের জেল