জামালপুরের ইসলামপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১০টি অবৈধ জাল জব্দ

কাওছার আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের ইসলামপুরে মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধে যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে কোনো ইলিশ পাওয়া না গেলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি অবৈধ চায়না ও রিং জাল জব্দ করা হয়েছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত এ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জাল ব্যবহারের বিষয়টি নজরদারি করা হয়।

অভিযান চলাকালে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি চায়না ও রিং জাল উদ্ধার করা হয়। এসব জাল মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হলে নদীর অন্যান্য জলজ প্রাণী ও মাছের প্রজনন ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। জব্দ করা জালগুলো পরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান মূলত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ। এ সময় নদীতে জাল ফেলা, ইলিশ ধরা কিংবা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের সুযোগ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন হয়। ইসলামপুরের যমুনা নদী এলাকায় পরিচালিত বৃহস্পতিবারের অভিযানে কোনো ইলিশ ধরা পড়েনি। তবে অবৈধ চায়না ও রিং জাল জব্দ হওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীপথে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মাধ্যমে জেলেদের পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদেরও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মুহাম্মদ জুবায়ের নেতৃত্ব দেন। অভিযানের সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও নজরদারির মাধ্যমে পরিত্যক্ত জাল শনাক্ত করে সেগুলো জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় নদীতে ব্যবহার করা না যায়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিষেধাজ্ঞার সময় অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেয়। একই সঙ্গে নদীতে নিয়ম মেনে মাছ ধরার পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞার সময় যমুনা নদীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার ও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নদীতে জাল ব্যবহারের ওপর নজরদারি এবং জব্দ করা অবৈধ জাল ধ্বংস করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান তাই শুধু অবৈধ জাল জব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ এবং এর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ জাল ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইসলামপুরে বৃহস্পতিবারের অভিযানে কোনো ইলিশ পাওয়া না গেলেও ১০টি অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা প্রশাসনের নজরদারির একটি দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতেও নদীর বিভিন্ন অংশে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালু রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি যমুনা নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

আরোও পড়ুন – সংস্কার ও সুশাসনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন

জামালপুরের ইসলামপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১০টি অবৈধ জাল জব্দ

অক্টোবর ৮, ২০২৬

কাওছার আহমেদ, জামালপুর প্রতিনিধিঃ

জামালপুরের ইসলামপুরে মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধে যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে কোনো ইলিশ পাওয়া না গেলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি অবৈধ চায়না ও রিং জাল জব্দ করা হয়েছে। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত এ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জাল ব্যবহারের বিষয়টি নজরদারি করা হয়।

অভিযান চলাকালে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি চায়না ও রিং জাল উদ্ধার করা হয়। এসব জাল মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হলে নদীর অন্যান্য জলজ প্রাণী ও মাছের প্রজনন ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। জব্দ করা জালগুলো পরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান মূলত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ। এ সময় নদীতে জাল ফেলা, ইলিশ ধরা কিংবা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের সুযোগ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন হয়। ইসলামপুরের যমুনা নদী এলাকায় পরিচালিত বৃহস্পতিবারের অভিযানে কোনো ইলিশ ধরা পড়েনি। তবে অবৈধ চায়না ও রিং জাল জব্দ হওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীপথে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মাধ্যমে জেলেদের পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদেরও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মুহাম্মদ জুবায়ের নেতৃত্ব দেন। অভিযানের সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও নজরদারির মাধ্যমে পরিত্যক্ত জাল শনাক্ত করে সেগুলো জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় নদীতে ব্যবহার করা না যায়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিষেধাজ্ঞার সময় অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেয়। একই সঙ্গে নদীতে নিয়ম মেনে মাছ ধরার পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞার সময় যমুনা নদীতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার ও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নদীতে জাল ব্যবহারের ওপর নজরদারি এবং জব্দ করা অবৈধ জাল ধ্বংস করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান তাই শুধু অবৈধ জাল জব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ এবং এর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ জাল ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইসলামপুরে বৃহস্পতিবারের অভিযানে কোনো ইলিশ পাওয়া না গেলেও ১০টি অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা প্রশাসনের নজরদারির একটি দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতেও নদীর বিভিন্ন অংশে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালু রাখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পাশাপাশি যমুনা নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

আরোও পড়ুন – সংস্কার ও সুশাসনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন

⇧