সিরাজদিখানে একাধিক পরকীয়া অভিযোগ ঢাকতে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক ও সামাজিকভাবে আলোচিত অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এক নারীর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা চলছে।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক নারীর একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক ও সামাজিকভাবে আলোচিত নানা বিতর্কিত ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে তারই কথিত পরকীয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হাটি এলাকার প্রবাসী উত্তম সরকারের স্ত্রী স্মৃতি সরকার (৩৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একই এলাকার মনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অমল দাসের ছেলে প্রশান্ত দাস (৪২)-এর সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশীর দাবি, স্মৃতি সরকারের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি নতুন নয়। কয়েক বছর আগে তিনি আরেক পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে তিন থেকে চার দিন অবস্থানকালে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। সে সময় এলাকাবাসী ও তার স্বামী উত্তম সরকার যৌথভাবে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই ঘটনার পর সামাজিক সিদ্ধান্তে উত্তম সরকারকে সমাজচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে তাকে আরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়, যা স্থানীয় মন্দির উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। স্থানীয়দের মতে, স্মৃতি সরকার পরবর্তীতে তার বাবার বাড়ি রাজানগরের শরীফ নামের এক যুবকের সঙ্গে নতুন করে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একই সময় তিনি প্রশান্ত দাসের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার একপর্যায়ে স্মৃতি সরকারের স্বামী উত্তম সরকার বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ আমলি আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৮৯/২০২৫ (২২৫/২৫), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩ ও ২০২৫) এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর ছোট ছেলে ইশান সরকার ও অভিযুক্ত প্রশান্ত দাসের কন্যা একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের সুবাদে অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে সে সময় প্রশান্ত দাস স্মৃতি সরকারকে বিভিন্ন সময় অশালীন প্রস্তাব ও মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথা বলতেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয় পরিবারকে জানালে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টায় নিজ বাড়ির উঠানে ঝাড়ু দেওয়ার সময় অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক ধরে কুকর্মের চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার গলায় থাকা এক ভরি সাত আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
এই মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রশান্ত দাস পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র ও প্রতিবেশীর দাবি, এটি একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।
এদিকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, স্মৃতি সরকার এর আগেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় লোকনাথ রায় নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামীর দেওয়া প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান। সেখানে কয়েকদিন গোপনে অবস্থানের পর এলাকাবাসী ও স্বামীর হস্তক্ষেপে তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়।
এছাড়াও সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকার উদ্বর মন্ডলের ছেলে সঞ্জিতের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সঞ্জিতের পরিবার তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
মামলার সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যেই রয়েছেন বাদীর পিতা। তবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ের চরিত্র ভালো না। তার কারণে আমরা সামাজিকভাবে লজ্জিত। আমাকে না জানিয়ে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। আমি কখনোই মিথ্যা সাক্ষ্য দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, মানসম্মান আছে। ওর মতো মেয়ের পরিচয় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”
এ বিষয়ে স্মৃতি সরকারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রথমে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে বলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন, পরে কথা বলবেন।
ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন, যাতে সত্য-মিথ্যা উদঘাটন হয় এবং নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।

সিরাজদিখানে একাধিক পরকীয়া অভিযোগ ঢাকতে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

জানুয়ারি ৭, ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক ও সামাজিকভাবে আলোচিত অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এক নারীর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনা চলছে।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক নারীর একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক ও সামাজিকভাবে আলোচিত নানা বিতর্কিত ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে তারই কথিত পরকীয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হাটি এলাকার প্রবাসী উত্তম সরকারের স্ত্রী স্মৃতি সরকার (৩৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একই এলাকার মনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অমল দাসের ছেলে প্রশান্ত দাস (৪২)-এর সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশীর দাবি, স্মৃতি সরকারের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি নতুন নয়। কয়েক বছর আগে তিনি আরেক পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে তিন থেকে চার দিন অবস্থানকালে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন। সে সময় এলাকাবাসী ও তার স্বামী উত্তম সরকার যৌথভাবে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই ঘটনার পর সামাজিক সিদ্ধান্তে উত্তম সরকারকে সমাজচ্যুত করা হয়। পরবর্তীতে সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে তাকে আরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়, যা স্থানীয় মন্দির উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। স্থানীয়দের মতে, স্মৃতি সরকার পরবর্তীতে তার বাবার বাড়ি রাজানগরের শরীফ নামের এক যুবকের সঙ্গে নতুন করে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একই সময় তিনি প্রশান্ত দাসের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার একপর্যায়ে স্মৃতি সরকারের স্বামী উত্তম সরকার বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ আমলি আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৮৯/২০২৫ (২২৫/২৫), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩ ও ২০২৫) এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর ছোট ছেলে ইশান সরকার ও অভিযুক্ত প্রশান্ত দাসের কন্যা একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের সুবাদে অভিযুক্তের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে সে সময় প্রশান্ত দাস স্মৃতি সরকারকে বিভিন্ন সময় অশালীন প্রস্তাব ও মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথা বলতেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয় পরিবারকে জানালে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৬টায় নিজ বাড়ির উঠানে ঝাড়ু দেওয়ার সময় অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক ধরে কুকর্মের চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার গলায় থাকা এক ভরি সাত আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
এই মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রশান্ত দাস পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র ও প্রতিবেশীর দাবি, এটি একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।
এদিকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, স্মৃতি সরকার এর আগেও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় লোকনাথ রায় নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামীর দেওয়া প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান। সেখানে কয়েকদিন গোপনে অবস্থানের পর এলাকাবাসী ও স্বামীর হস্তক্ষেপে তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়।
এছাড়াও সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকার উদ্বর মন্ডলের ছেলে সঞ্জিতের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সঞ্জিতের পরিবার তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
মামলার সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যেই রয়েছেন বাদীর পিতা। তবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ের চরিত্র ভালো না। তার কারণে আমরা সামাজিকভাবে লজ্জিত। আমাকে না জানিয়ে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। আমি কখনোই মিথ্যা সাক্ষ্য দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, মানসম্মান আছে। ওর মতো মেয়ের পরিচয় দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”
এ বিষয়ে স্মৃতি সরকারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রথমে প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে বলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন, পরে কথা বলবেন।
ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন, যাতে সত্য-মিথ্যা উদঘাটন হয় এবং নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।