শ্রীনগরে শ্বশুর বাড়িতে জামাতার ফাঁসি চেষ্টা, উদ্ধারের পর লাপাত্তা

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

শ্রীনগর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে এসে এক জামাতার ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি লাপাত্তা হয়ে যান।

শ্রীনগরে জামাতার ফাঁসি চেষ্টা

ঘটনাটি ঘটে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিবরামপুর হাটসংলগ্ন সরকার নির্মিত একটি ঘরে। অভিযুক্ত জামাতার নাম মোঃ জাকির হোসেন (৩২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতশি ইউনিয়নের খেরিহর গ্রামের মুকবল হোসেনের ছেলে জাকির হোসেনের সঙ্গে ২০১৬ সালে শ্রীনগরের বাড়ৈখালী ইউনিয়নের নাসরিনের তিন লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আব্দুল্লাহ নামে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

জাকির পেশায় একজন টেইলার্স। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কামরাঙ্গীচরে পরিবার নিয়ে বসবাসের পর তিনি প্রবাসে যান। সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে ওমান প্রবাসী আঁখি নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দেশে ফিরে জাকির তাকে বিয়ে করে আত্মগোপনে চলে যান।

স্বামীর খোঁজে প্রথম স্ত্রী নাসরিন চাঁদপুরে জাকিরের বাড়িতে গেলে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাকির ছেলেকে দেখার জন্য শিবরামপুরে শ্বশুর বাড়িতে আসেন। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে ও সংসারের খোঁজখবর না রাখার বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়।

এরই জেরে ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে জানালার গ্রিল কেটে তাকে উদ্ধার করেন।

পরদিন দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখি সেখানে উপস্থিত হন। উভয়ের উপস্থিতিতে জাকির প্রথম স্ত্রী নাসরিনকে ছেড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার ঘোষণা দেন। এ সময় কাবিনের টাকা, ভরণ-পোষণ ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রথম স্ত্রীকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জাকিরের বাবা, ভাই ও বোন বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে জাকির কৌশলে স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে জাকিরের বাবা জানান, “আমাদের না জানিয়ে সে দুইবার বিয়ে করেছে। নাসরিন ও তার সন্তানকে আমরা মেনে নিয়েছি। অন্য স্ত্রীকে আমরা চিনিনা।”
জাকিরের বড় বোন রোজিনা আক্তার বলেন, “আমার ভাই ভুল করেছে। নাসরিনই আমার ভাইয়ের বৈধ স্ত্রী। আঁখির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

আরোও পড়ুন – মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে প্রবাসীর স্ত্রী স্বর্ণ, নগদ অর্থ ও সন্তান নিয়ে উধাও

শ্রীনগরে শ্বশুর বাড়িতে জামাতার ফাঁসি চেষ্টা, উদ্ধারের পর লাপাত্তা

মার্চ ২, ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

শ্রীনগর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে এসে এক জামাতার ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি লাপাত্তা হয়ে যান।

শ্রীনগরে জামাতার ফাঁসি চেষ্টা

ঘটনাটি ঘটে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিবরামপুর হাটসংলগ্ন সরকার নির্মিত একটি ঘরে। অভিযুক্ত জামাতার নাম মোঃ জাকির হোসেন (৩২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতশি ইউনিয়নের খেরিহর গ্রামের মুকবল হোসেনের ছেলে জাকির হোসেনের সঙ্গে ২০১৬ সালে শ্রীনগরের বাড়ৈখালী ইউনিয়নের নাসরিনের তিন লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আব্দুল্লাহ নামে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

জাকির পেশায় একজন টেইলার্স। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কামরাঙ্গীচরে পরিবার নিয়ে বসবাসের পর তিনি প্রবাসে যান। সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে ওমান প্রবাসী আঁখি নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দেশে ফিরে জাকির তাকে বিয়ে করে আত্মগোপনে চলে যান।

স্বামীর খোঁজে প্রথম স্ত্রী নাসরিন চাঁদপুরে জাকিরের বাড়িতে গেলে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাকির ছেলেকে দেখার জন্য শিবরামপুরে শ্বশুর বাড়িতে আসেন। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে ও সংসারের খোঁজখবর না রাখার বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়।

এরই জেরে ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে জানালার গ্রিল কেটে তাকে উদ্ধার করেন।

পরদিন দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখি সেখানে উপস্থিত হন। উভয়ের উপস্থিতিতে জাকির প্রথম স্ত্রী নাসরিনকে ছেড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার ঘোষণা দেন। এ সময় কাবিনের টাকা, ভরণ-পোষণ ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রথম স্ত্রীকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জাকিরের বাবা, ভাই ও বোন বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে জাকির কৌশলে স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে জাকিরের বাবা জানান, “আমাদের না জানিয়ে সে দুইবার বিয়ে করেছে। নাসরিন ও তার সন্তানকে আমরা মেনে নিয়েছি। অন্য স্ত্রীকে আমরা চিনিনা।”
জাকিরের বড় বোন রোজিনা আক্তার বলেন, “আমার ভাই ভুল করেছে। নাসরিনই আমার ভাইয়ের বৈধ স্ত্রী। আঁখির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

আরোও পড়ুন – মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে প্রবাসীর স্ত্রী স্বর্ণ, নগদ অর্থ ও সন্তান নিয়ে উধাও