গ্যাস চুরি: ফতুল্লায় ম্যাগনেট কৌশলে কারচুপি, তিতাসের অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
তারিখ: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিল্প কারখানায় অবৈধ জ্বালানি ব্যবহারের একটি বড় চিত্র সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে একটি ডাইং কারখানায় গ্যাস চুরির প্রমাণ পেয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। অভিযানে কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাইপ, শক্তিশালী ম্যাগনেট এবং বিভিন্ন কারচুপির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সকালে তিতাসের একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ দল কারখানাটিতে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, গ্যাস মিটারের সঙ্গে শক্তিশালী ম্যাগনেট বসিয়ে রিডিং কমিয়ে রাখা হচ্ছিল। এতে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় কম বিল আসত। কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস চুরি করে আসছিল কারখানাটি, যা রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে কারখানার বয়লার ও ডাইং সেকশন চালানো হচ্ছিল। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্যাসের স্বল্পতা রয়েছে এবং এর পেছনে গ্যাস চুরি একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযান শেষে তিতাস গ্যাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মিটার কারচুপি ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরি একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের অপরাধ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তিতাসের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিল্প কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রান্না ও দৈনন্দিন কাজে গ্যাস সংকট তাদের জীবনে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আশা করছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্যাস চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ফতুল্লা নয়, নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য শিল্প এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেখানে অভিযান চালানো হবে। এতে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও

গ্যাস চুরি: ফতুল্লায় ম্যাগনেট কৌশলে কারচুপি, তিতাসের অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

এপ্রিল ২৬, ২০২৬

হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
তারিখ: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিল্প কারখানায় অবৈধ জ্বালানি ব্যবহারের একটি বড় চিত্র সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে একটি ডাইং কারখানায় গ্যাস চুরির প্রমাণ পেয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। অভিযানে কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাইপ, শক্তিশালী ম্যাগনেট এবং বিভিন্ন কারচুপির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সকালে তিতাসের একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ দল কারখানাটিতে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, গ্যাস মিটারের সঙ্গে শক্তিশালী ম্যাগনেট বসিয়ে রিডিং কমিয়ে রাখা হচ্ছিল। এতে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় কম বিল আসত। কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস চুরি করে আসছিল কারখানাটি, যা রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে কারখানার বয়লার ও ডাইং সেকশন চালানো হচ্ছিল। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্যাসের স্বল্পতা রয়েছে এবং এর পেছনে গ্যাস চুরি একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিযান শেষে তিতাস গ্যাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মিটার কারচুপি ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরি একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের অপরাধ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তিতাসের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিল্প কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রান্না ও দৈনন্দিন কাজে গ্যাস সংকট তাদের জীবনে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আশা করছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গ্যাস চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু ফতুল্লা নয়, নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য শিল্প এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেখানে অভিযান চালানো হবে। এতে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি: আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও